শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

তিনি অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুর্নীতিতে সামান্যতম যুক্ত থাকলে তাকে ২৪ ঘণ্টাও স্বপদে থাকতে দেওয়া হবে না।

 

সোমবার রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ে আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অনমনীয় অবস্থান ব্যক্ত করেন।

 

শিক্ষা খাতের মতো সংবেদনশীল ও জাতি গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বিন্দুমাত্র বরদাশত করা হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় মন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

তিনি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যে ব্যক্তি এখানে দুর্নীতির সঙ্গে ন্যূনতম যুক্ত থাকবে, সে কোনোভাবেই ২৪ ঘণ্টাও তার পদে বহাল থাকতে পারবে না।

 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের এই চলমান শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" নিজের কথার বাস্তব সত্যতা প্রমাণ করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, দুর্নীতির সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ইতিমধ্যেই প্রশাসনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন এবং সেদিনই (সোমবার) একজনকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বিদায় করেছেন।

 

তাঁর এই তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, সরকার শিক্ষা প্রশাসনের সর্বস্তরে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি দেশের সার্বিক শিক্ষাপঞ্জি বা একাডেমিক ক্যালেন্ডার পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের বিষয়েও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন শিক্ষামন্ত্রী।

 

তিনি জানান, দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনকে আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীল করার লক্ষ্যে আগামী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো প্রথাগত সময়ের পরিবর্তে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

 

তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই বিষয়টি আপাতত একটি প্রাথমিক চিন্তাভাবনার পর্যায়েই রয়েছে এবং এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি।

 

শিক্ষাবিদ, শিক্ষক সমাজ, অভিভাবক এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সাথে বিস্তারিত আলোচনা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি গভীরভাবে মূল্যায়ন করার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

 

শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশাসনিক স্থবিরতা ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল, তা দূর করতে শিক্ষামন্ত্রীর এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ সচেতন নাগরিক সমাজের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

 

একটি দুর্নীতিমুক্ত ও যুগোপযোগী শিক্ষাকাঠামো বিনির্মাণে তাঁর এই কঠোর বার্তা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা। অন্যদিকে, পরীক্ষা পদ্ধতি ও সময়সূচিতে সম্ভাব্য এই পরিবর্তন দেশের লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সাথে সম্পৃক্ত বিধায়, মন্ত্রণালয়ের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত দেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।