এই অকাল মৃত্যুগুলো সারা দেশের অসংখ্য অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মাঝে চরম শোক ও ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, মারা যাওয়া এই পাঁচ শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণেই হয়েছে বলে চিকিৎসকরা শনাক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, বাকি চারজন শিশু হামের অত্যন্ত সন্দেহজনক ও জটিল উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। শুধু প্রাণহানিই নয়, একই সময়ে দেশজুড়ে সংক্রমণের মাত্রাও রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো।
গত এক দিনেই নতুন করে হাম এবং হাম সন্দেহে অন্তত ১ হাজার ২৯৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির এই চরম উদ্বেগজনক ও হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এই বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, দেশে হামের মতো একটি রোগ বর্তমানে কতটা বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে এবং স্বাস্থ্য খাতের জন্য এটি কতটা বড় একটি জরুরি অবস্থা তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরবরাহ করা এই পরিসংখ্যানের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে প্রতীয়মান হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৯ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
এর পাশাপাশি, একই সময়ের মধ্যে হামের প্রবল সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে আরও ১৯৪ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে, যা একটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য চরম সতর্কবার্তা। প্রাণহানির এই বিষাদময় পরিসংখ্যানের পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যাও রীতিমতো উদ্বেগজনক।
এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দেশজুড়ে ৪ হাজার ৫৯ জন শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। এর বাইরেও, হামের সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছে বা আক্রান্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে আরও ২৮ হাজার ৩৩৩ জন শিশু।
সব মিলিয়ে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হামের এই প্রাণঘাতী বিস্তার দেশের কোমলমতি শিশুদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। প্রতিদিন এত বিপুলসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর মিছিলে নতুন নতুন নাম যুক্ত হওয়ার এই ঘটনা একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রোগের বিস্তার রোধে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন স্বজন হারানোর বেদনায় ভারী হতে না হয়।