শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভর্তি প্রক্রিয়ায় দেশে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের ‘৪০ লাখ বছর’ অপচয় হচ্ছে- শিক্ষামন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

ভর্তি প্রক্রিয়ায় দেশে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের ‘৪০ লাখ বছর’ অপচয় হচ্ছে- শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় উচ্চমাধ্যমিক স্তর ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা এবং সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪০ লাখ বছর সময়ের অপচয় ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব দেশের সম্ভাবনাময় জনতাত্ত্বিক লভ্যাংশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। রোববার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রতি বছর মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ের প্রায় ২০ লাখ এবং উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ের আরও প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী শুধুমাত্র ভর্তি প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে তাদের জীবনের মূল্যবান সময় হারাচ্ছে।

 

কখন ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং কখন তা শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা না থাকায় এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে থাকছে।

 

এই সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সমন্বিত ও যুগোপযোগী ভর্তি ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দেন।

 

উচ্চশিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের উন্নয়নে সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিলেও কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়।

 

শিক্ষাক্রম বা পাঠ্যসূচি শেষ করার গতানুগতিক চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে কীভাবে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে সবাইকে ভাবতে হবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

 

এসব প্রতিষ্ঠান প্রকৃত অর্থেই শিক্ষার মান উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে নাকি নিছক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, তার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা জরুরি।

 

আমরা কেবল উচ্চশিক্ষার সনদ প্রদান করছি, নাকি সত্যিকার অর্থে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছি, তা আজ একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাঠামোগত ও গুণগত পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেবল যত্রতত্র নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করলেই হবে না, বরং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে গবেষণার উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কোনোভাবেই বেকার তৈরির কারখানা হতে দেওয়া যাবে না। এর পরিবর্তে সেগুলোকে কর্মসংস্থানমুখী ও গবেষণাভিত্তিক আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার তাগিদ দেন তিনি।

 

এক্ষেত্রে শিল্প খাতের সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনের সংযোগ আরও সুদৃঢ় করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি, শিক্ষা খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে।

 

তা নিয়েও তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন এবং মাননির্ধারক কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

 

গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মঞ্জুরি কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।