তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকার পুরোপুরি সন্তুষ্ট এবং এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকেও বেশ ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
একই সঙ্গে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শিক্ষাবর্ষের জট চিরতরে দূর করতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সব বোর্ড পরীক্ষা শেষ করে জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করার যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
রোববার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন বার্তা আদান-প্রদানের বিভিন্ন মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে যেসব গুজব ছড়ানো হয়, তা যাচাই না করে সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করলে সাধারণ পরীক্ষার্থীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, কে গুজব ছড়াচ্ছে সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সত্যতা নিশ্চিত না করে তা প্রচার করা আরও বড় একটি সমস্যা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনেক সময় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা সবসময় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।
তাই সংবাদ প্রকাশের আগে তার বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা গণমাধ্যমের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। গুজব প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ড. এহছানুল হক মিলন জানান, যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বা যাচাই ছাড়া প্রচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই কঠোরতা অব্যাহত থাকবে।
পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সরকার একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি গুজব রোধে সবার সচেতনতা ও সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে কোনো শিক্ষার্থী অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাবর্ষের জট নিরসনের বিষয়েও মন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। তিনি জানান, এই সংকট সমাধানে শিক্ষা বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
নির্ধারিত দুই বছরের পাঠ্যক্রম যথাসময়ে শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যেই সব পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে। সরকার চায় জানুয়ারি মাস থেকেই যেন নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়, যাতে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের অপেক্ষার প্রহর গুনতে না হয়।
এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।