রোববার রাজধানীর শাহবাগে নিজেদের ন্যায্য দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এবং বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতির কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রতিমন্ত্রী তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সাত সদস্যের ওই শিক্ষক প্রতিনিধিদলে ছিলেন দেবব্রত, জান্নাতুল ইসলাম টনি, পারভেজ, আফসানা, জান্নাতুল ফেরদৌস শান্তা, ফারজানা এবং শিশির।
আন্দোলনরত চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর আড়াই মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও যোগদান ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় চরম ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রায় পনেরো হাজার প্রার্থীর জীবনে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের পুনঃতদন্ত শেষে গত আটই ফেব্রুয়ারি এই চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছিল।
এরপর নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় সব শিক্ষাগত ও ব্যক্তিগত কাগজপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এমনকি দ্রুত যোগদানের আশায় এদের মধ্যে অনেকেই তাদের আগের কর্মস্থল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নিয়েছেন।
এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর ও প্রহসনমূলক পরিস্থিতিতে দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে তারা জাতীয় জাদুঘরের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
রোববার সকাল এগারোটায় আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও, চরম উৎকণ্ঠায় থাকা প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই শাহবাগ মোড়ের সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে সামান্য কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হলে আন্দোলনকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের দেওয়া সীমানার মধ্যেই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
উল্লেখ্য, গত নয়ই জানুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা বাদে দেশের বাকি একষট্টিটি জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ঊনসত্তর হাজার দুইশত পঁয়ষট্টি জন প্রার্থীকে পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়েছিল। সকল প্রক্রিয়া শেষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে, যেখানে চৌদ্দ হাজার তিনশত চুরাশি জনকে নিয়োগের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করা হয়।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত নির্দেশনার অভাবে এই মেধাবী তরুণ-তরুণীদের ভবিষ্যৎ আজ এক অজানা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।