চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই এগারো জন শিশুর মধ্যে সাতজন হামের প্রাথমিক উপসর্গ নিয়ে এবং চারজন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন।
এই নতুন প্রাণহানির মধ্য দিয়ে গত পনেরো মার্চ থেকে শুরু করে চলতি মাসের দশ তারিখ পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে শিশু মৃত্যুর মোট সংখ্যা চারশো নয় জনে গিয়ে পৌঁছাল।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের এই ক্রমাগত মৃত্যুতে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত বিস্তারিত পরিসংখ্যানে এই প্রাদুর্ভাবের ভয়াবহতা আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সরকারি তথ্যমতে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের সুস্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছে এমন শিশুর সংখ্যা এক হাজার সাতশো আট জন।
গত প্রায় দেড় মাস সময় ধরে চলা এই স্বাস্থ্য সংকটে দেশব্যাপী মোট চারশো নয় জন শিশুর যে মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে, তার চিকিৎসা সংক্রান্ত পর্যালোচনাও প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত চিকিৎসা প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত শিশুদের মধ্যে পঁয়ষট্টি জন শিশু নিশ্চিতভাবে হাম ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল। অন্যদিকে, বাকি তিনশো চুয়াল্লিশ জন শিশু হামের সুনির্দিষ্ট উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, যথাযথ রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরুর আগেই অনেক শিশু প্রাণ হারাচ্ছে, যা সামগ্রিক শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘ দেড় মাসের এই সরকারি পরিসংখ্যানে আক্রান্তের সামগ্রিক হারও অত্যন্ত ভয়াবহ এবং আশঙ্কাজনক। হিসাব অনুযায়ী, উল্লেখিত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে মোট ছয় হাজার আটশো উনিশ জন শিশু।
এর পাশাপাশি, একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছে আরও উনপঞ্চাশ হাজার একশো ঊনষাট জন শিশু। আঞ্চলিক হিসাব নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ঘনবসতিপূর্ণ এই বিভাগটিতে হাম এবং হাম সন্দেহে এখন পর্যন্ত মোট একশো ঊনআশি জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, শুধুমাত্র ঢাকা বিভাগেই মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছাব্বিশ হাজার আটশো আঠাশ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই সামগ্রিক প্রতিবেদনটি গত পনেরো মার্চ সকাল আটটা থেকে শুরু করে দশ মে সকাল আটটা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রণয়ন করা হয়েছে।
উদ্ভূত এই সংকটময় পরিস্থিতিতে শিশু বিশেষজ্ঞরা সকল অভিভাবককে শিশুদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আরও বেশি সচেতন হওয়ার এবং যেকোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন।