বুধবার (১৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষাবিদরা এই প্রস্তাবের বিষয়ে তাঁদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তাঁদের সর্বসম্মত মত হলো, আকস্মিকভাবে পরীক্ষার সময়সূচি চার মাস এগিয়ে আনা হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর চরম মানসিক চাপ ও প্রস্তুতির ঘাটতি সৃষ্টি হবে। এর যৌক্তিক বিকল্প হিসেবে তাঁরা আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের জোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
উচ্চপর্যায়ের এই মতবিনিময় সভায় দেশের বিভিন্ন জেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং অভিভাবক প্রতিনিধিরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তাঁদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী অধিকাংশের সুস্পষ্ট অভিমত ছিল যে, কোনো প্রকার পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া এক ধাক্কায় চার মাস সময় কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তটি মোটেও বাস্তবসম্মত নয়।
এর পরিবর্তে প্রতি বছর এক মাস করে সময় এগিয়ে এনে ধীরে ধীরে তা ডিসেম্বরে নিয়ে এলে শিক্ষার্থীরা নতুন সময়সূচির সঙ্গে খুব সহজেই নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপস্থিত কর্মকর্তারাও গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, সার্বিক দিক বিবেচনা করে অংশীজনদের পক্ষ থেকে এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে আয়োজনের পক্ষেই সর্বাধিক সমর্থন ও যৌক্তিকতা পাওয়া গেছে।
দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ এই বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে জানান, পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাব্য সময় এবং তা সমন্বয়ের নানাবিধ দিক নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের বিশদ ও গঠনমূলক মতামত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ২০২৭ সালেই জোরপূর্বক ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হবে নাকি ২০২৮ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে সময় সমন্বয় করা হবে-সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থ এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকেই সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।
একই সভায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে বলেন, আগামী বছর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এই বাস্তবতায় জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এসএসসি পরীক্ষা শুরু করা গেলে রোজার আগেই তা সম্পূর্ণ বাধাহীনভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়ে রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তামান্না বেগম সভায় মত প্রকাশ করে বলেন, এসএসসি পরীক্ষা তুলনামূলক আগে শেষ করা গেলে এইচএসসির বিস্তৃত সিলেবাস সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় পাবে।
তবে শিক্ষার্থীদের সার্বিক প্রস্তুতির সুবিধার্থে ফর্ম পূরণের পর পর্যাপ্ত সময় দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা মার্চ বা এপ্রিলে নেওয়াটাই সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞানসম্মত ও উপযোগী হবে।
সার্বিক আলোচনা শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা ঠিক কোন সময়ে আয়োজন করা সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হবে, সে বিষয়ে অংশীজনদের মূল্যবান মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সার্বিক পর্যালোচনা শেষে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হবে।