রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারকে সময় ফুরিয়ে আসার সতর্কবার্তা দিলেন জামায়াত আমির

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

সরকারকে সময় ফুরিয়ে আসার সতর্কবার্তা দিলেন জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

সরকারকে অবিলম্বে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

 

জনদাবি স্বেচ্ছায় মেনে না নিলে ১৯৯৬ সালের মতো রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করা হবে। শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত ১১-দলীয় জোটের এক বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

 

জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং গণরায়ের প্রতিফলনের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। নেতাকর্মীদের জেল-জুলুম বা ফাঁসির ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে তারা বারবার কারাবরণ করতে এবং নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন।

 

তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীনদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, ক্ষমতার পালাবদল কখনোই চিরস্থায়ী নয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

 

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বিরোধী দল সম্পর্কে যেসব ভিত্তিহীন ও অসত্য তথ্য পরিবেশন করছেন, তা দেশের শীর্ষ পদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

 

বিশেষ করে বাজেটে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর প্রতিবাদে বিরোধী দল রাজপথে মিছিল করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট।

 

তিনি সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাজেটের গঠনমূলক সমালোচনা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি নাগরিক অধিকার। সংসদে কথা বলার সুষ্ঠু পরিবেশ না পেয়েই তারা রাজপথে নেমে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে বাধ্য হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

পাশাপাশি নির্বাচিত সরকারের আমলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সমাবেশে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেটকে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও লুটেরাবান্ধব হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

 

তিনি অভিযোগ করেন, এই বাজেটে ব্যাংক দখল ও দুর্নীতি বন্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই; বরং এটি বাস্তবায়নের জন্য দেশকে বিপুল অঙ্কের বিদেশি ঋণের বোঝায় আবদ্ধ করতে হবে। দেশে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই দখলদারি বন্ধ হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

 

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংককে পুনরায় এস আলম গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এই আর্থিক দখলদারি কোনোভাবেই মেনে নেবে না। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের ওপর জোর দেন।

 

সম্প্রতি চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে গোয়েন্দা পুলিশের নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ ও বিচার বিভাগের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম বেড়েছে।

 

সরকার স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ অব্যাহত রাখলে আবারও দেশে গণ-অভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে উঠবে বলে তিনি সতর্ক করেন। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গেও সমাবেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারত থেকে নতুন হাইকমিশনার আসার পরপরই মৌলভীবাজার সীমান্তে ফের এক বাংলাদেশিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, সীমান্তে কাঁটাতার ও গুলির মাধ্যমে কখনো দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারে না।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দেশের চরম অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জনজীবনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে এবং অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।