শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি মন্তব্য করেন যে, দেশে বিভিন্নভাবে মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত একটি সর্বজনীন ও মানসম্মত ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এই ধরনের একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় একশ ত্রিশ বছর আগে জার্মানির চ্যান্সেলর অটো ফন বিসমার্ক সর্বপ্রথম ন্যূনতম মজুরির ধারণাটি সামনে এনেছিলেন।
এরপর বিশ্বব্যাপী অধিকার আদায়ের অসংখ্য আন্দোলন হয়েছে এবং অনেক দেশেই এটি বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো, বাংলাদেশে এখনো জাতীয় পর্যায়ে মানসম্মত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
শ্রমজীবী মানুষের আইনি বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের শ্রম আদালত ও বিশেষ বিচারিক পর্ষদগুলোতে বর্তমানে সাধারণ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে প্রায় সাতাশ হাজার পাঁচশ মামলা ঝুলে আছে।
এসব হয়রানিমূলক মামলার কোনো সুষ্ঠু সুরাহা না হওয়ায় শ্রমিকরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একজন শ্রমিক তার জীবিকার সন্ধানে কারখানায় সময় দেবেন নাকি আদালতের বারান্দায় ঘুরে বেড়াবেন, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সভ্যতার চাকা ঘোরে শ্রমিকের ঘাম ও রক্তে; তাই তাদের এই আইনি হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়া এবং ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে শ্রমিকদের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। সমাবেশে দেশের শিল্প খাতের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার বিষয়েও জোর দেন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, বর্তমানে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় নীতিমালার আওতায় পুনরায় চালু করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এসব কারখানা সচল হলে দেশের লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে আদমজীর নিকটবর্তী এলাকায় দুইশ দশ মেগাওয়াট এবং গাজীপুরে আশি মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল।
কিন্তু বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অত্যন্ত পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। মূলত নিজেদের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের অতি উচ্চমূল্যে জরুরিভিত্তিতে ভাড়ায় চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনৈতিক সুযোগ করে দিতেই পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় ওই লাভজনক স্থাপনাগুলো অকার্যকর করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এসব দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে দেশের সম্পদ রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।