হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করায় চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এই জ্যেষ্ঠ নেতার অসুস্থতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান গত ২৫ জুন চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ সফর শেষে সিঙ্গাপুর থেকে সুস্থ অবস্থায় ঢাকায় ফিরেছিলেন।
তবে দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই তিনি পুনরায় শারীরিক অস্বস্তি বোধ করলে তাকে গত ৩০ জুন এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালটিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তার অসুস্থতার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত না জানানো হলেও, বয়সজনিত শারীরিক জটিলতা কিংবা নিয়মিত স্বাস্থ্যগত চেকআপের অংশ হিসেবেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নজরুল ইসলাম খানের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে দলের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে তাকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
এ সময় দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানও তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালে তাকে দেখার পর গণমাধ্যমের কাছে শায়রুল কবির খান জানান যে, চিকিৎসকরা বর্তমানে তাকে পুরোপুরি বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভের সুবিধার্থে তার শয্যাপাশে অযথা ভিড় না করতে এবং আপাতত সাক্ষাৎপ্রার্থীদের হাসপাতালে না আসার জন্য চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিএনপির রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নজরুল ইসলাম খান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরিশীলিত একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। দেশের রাজনৈতিক সংকটের প্রতিটি মোড়ে তার বলিষ্ঠ অবস্থান এবং দলীয় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে তার পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।
এমতাবস্থায়, দলের অন্যতম নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের এই নেতার অসুস্থতা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। দলীয় হাই কমান্ড নিয়মিত তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর রাখছে এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা পরিবারের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য প্রদান করা না হলেও, চিকিৎসকরা আশা করছেন যথাযথ বিশ্রাম এবং চিকিৎসায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। তবে শারীরিক অবস্থার সার্বিক উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।
নজরুল ইসলাম খানের সুস্থতা কামনায় দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে নিয়মিত খোঁজ রাখা হচ্ছে এবং যথাযথ নিয়ম মেনে তাকে সময় দেওয়ার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।