মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধসে পড়বে, জামায়াত আমির

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধসে পড়বে, জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সমগ্র ব্যাংকিং ব্যবস্থা মাটির সঙ্গে মিশে যাবে বলে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক জোরালো ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নতুন এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অত্যন্ত সুকৌশলে এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে একজন সম্পূর্ণ অযোগ্য ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি সুস্পষ্ট অশনিসংকেত।

 

মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়।

 

রাষ্ট্রের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অংশ নিয়ে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের বর্তমান চরম দুরবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন জামায়াত আমির।

 

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার এস আলম গ্রুপকে নিজেদের হীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই লাভজনক ও সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।

 

বর্তমানে সেই একই বিতর্কিত এস আলম গোষ্ঠীকে পুনরায় ব্যাংকের কর্তৃত্বে ফিরিয়ে আনার একটি সুস্পষ্ট অপচেষ্টা চলছে বলে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে এই ধরনের অদূরদর্শী খেলা অব্যাহত থাকলে দেশের আপামর জনসাধারণের মনে চরম মাত্রায় আস্থাহীনতা তৈরি হবে এবং ফলশ্রুতিতে পুরো ব্যাংকিং কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়বে, যার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর।

 

সংসদের এই বাজেট অধিবেশনে রাজনৈতিক অর্থায়ন ও ব্যাংক ঋণ নিয়েও এক তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরোক্ষভাবে জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে একটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।

 

তিনি দাবি করেন যে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে ৭০০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা জাতীয় নির্বাচনের নিজস্ব প্রচার ও ব্যয়ভার মেটাতে ব্যবহার করেছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন গুরুতর ও সংবেদনশীল অভিযোগের তাৎক্ষণিক, জোরালো ও কড়া জবাব দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে একটি উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ৭০০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে তা দলীয়ভাবে নির্বাচনে ব্যয় করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি তাঁর এই দাবি তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিন্দুমাত্রও প্রমাণ করতে সক্ষম হন, তবে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁকে একটি সম্মানসূচক পদক বা মেডেল প্রদান করবেন। জামায়াত আমিরের এই সাহসী ও পাল্টা চ্যালেঞ্জের ফলে সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক ভিন্নমাত্রার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।