শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে হত্যা ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধুত্ব স্থাপন সম্ভব নয়- নাহিদ ইসলাম

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

সীমান্তে হত্যা ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধুত্ব স্থাপন সম্ভব নয়- নাহিদ ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

 

তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমে কোনো দেশের সঙ্গেই কখনো প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

 

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ‘ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স’-এর উদ্যোগে ‘শাপলা গণহত্যা: বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা এবং একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

 

প্রতিবেশী দেশের নীতি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, সম্প্রতি আমাদের সীমান্তে আবারও নতুন করে হত্যাকাণ্ড ঘটছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে।

 

যারা প্রতিনিয়ত আমাদের দেশের নিরীহ জনগণকে হত্যা করে মুখে বন্ধুত্বের কথা বলে, তাদের সঙ্গে কখনোই মর্যাদাপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয়। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, কাঁটাতার দিয়ে কখনো মানুষের সঙ্গে মানুষের স্বাভাবিক সম্পর্ক আবদ্ধ করে রাখা যায় না।

 

একদিন ওই দেশের সাধারণ ও শান্তিকামী জনগণই এই বিভেদের কাঁটাতার উপড়ে ফেলে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

দেশের সার্বভৌমত্ব ও অধিকার রক্ষার বিষয়ে জোর দিয়ে বিরোধীদলীয় এই নেতা স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্বাধীন দেশের সীমানা রক্ষার প্রাথমিক ও প্রধান দায়িত্ব বর্তমান সরকারের।

 

কিন্তু সরকার যদি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়, তবে দেশের আপামর জনগণ নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষায় সেই দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে।

 

একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের ক্ষেত্রেও সরকারকে আরও বেশি সোচ্চার, মনোযোগী এবং কূটনৈতিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর আহ্বান জানান তিনি।

 

আলোচনা সভায় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রসঙ্গটিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। নাহিদ ইসলাম ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের মর্মান্তিক ঘটনার কথা গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ওই ভয়াবহ গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের যদি সময়মতো যথাযথ জবাবদিহির আওতায় আনা হতো, তবে চব্বিশ সালে জাতিকে হয়তো নতুন করে আর কোনো করুণ গণহত্যার সাক্ষী হতে হতো না।

 

তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল সুকৌশলে এই উভয় গণহত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল। প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার জন্য সেসময় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞকে গণমাধ্যমের একাংশে ‘হেফাজতের তাণ্ডব’ হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।

 

এমনকি নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ধর্মপ্রাণ মানুষদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হিসেবে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা ছিল একটি স্বাধীন দেশের জন্য চরম লজ্জাজনক।

 

দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অতীতের সব রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।