শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বৈরাচারী সরকারগুলো শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে- প্রধানমন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ মে, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

স্বৈরাচারী সরকারগুলো শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে- প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মহান মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে অতীত সরকারগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি-এর চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারগুলো এ দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে কেবল ছিনিমিনি খেলেছে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত করেছে।

 

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত মে দিবসের এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের আপামর শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায় এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

 

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য শ্রমিক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

শুক্রবারের এই সমাবেশে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এই বিশাল জনসমুদ্রের সামনে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শ্রমিক ও কৃষকদের অপরিসীম অবদানের কথা গভীরভাবে স্মরণ করেন।

 

তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। অতীতে এই সাধারণ মানুষদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত নানামুখী কল্যাণমূলক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি শ্রমিকের পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

 

এরই ধারাবাহিকতায় খুব শিগগিরই শ্রমিকদের স্ত্রীদের জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক সহায়তা কার্ড প্রদান করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে শ্রমিক পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনের অর্থনৈতিক চাপ অনেকাংশে লাঘব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

শিল্প খাতের পাশাপাশি দেশের বিশাল কৃষি খাত এবং কৃষক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নেও বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

সমাবেশে তিনি ঘোষণা করেন, গ্রামীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষকদের ঋণভার লাঘব করতে সরকার ইতোমধ্যেই দশ হাজার কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার্থে বিশেষ কার্ড প্রচলনের বিষয়েও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ গ্রামে বসবাস করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ কৃষকরা যেন চাষাবাদের জন্য সঠিক সময়ে সেচের পর্যাপ্ত পানি পান, তা নিশ্চিত করতে সরকার দেশব্যাপী নতুন করে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে।

 

পরিশেষে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, কৃষক এবং শ্রমিকদের ভাগ্য ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করতে পারলেই কেবল সমগ্র বাংলাদেশের ভাগ্য পরিপূর্ণভাবে পরিবর্তিত হবে এবং দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।