প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে প্রস্তাবিত এই বিশাল নিরাপত্তা প্রকল্পে একটি অত্যাধুনিক ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি একটি সামরিক হাসপাতাল এবং ড্রোন ঘাঁটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক রিচার্ড লিওন ৯০ হাজার বর্গফুটের একটি প্রস্তাবিত বলরুমের মাটির ওপরের নির্মাণকাজের একাংশ স্থগিত করার পর এই গোপন পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসে।
মূলত হোয়াইট হাউসের ভেঙে ফেলা পূর্ব অংশের জায়গায় ১ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই নতুন বলরুম এবং তার নিচে এই বহুস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা ভাবা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এই ব্যয়বহুল প্রকল্পের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরেছে। বিশেষ করে, গত এপ্রিলে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে চালানো একটি ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর থেকে শীর্ষ নেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির বিষয়ে তীব্র তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নতুন সুরক্ষাবলয়ে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা হামলা প্রতিহত করার মতো শক্তিশালী ছাদ এবং বুলডোজার প্রতিরোধী টাইটানিয়াম বেষ্টনী থাকবে।
এছাড়া মাটির নিচে ছয় তলাবিশিষ্ট একটি সুসংগঠিত কমপ্লেক্স থাকবে, যেখানে সামরিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ ছাদ-ভিত্তিক সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তবে এই গবেষণা কেন্দ্র ও বিশেষ সুবিধাগুলোর সুনির্দিষ্ট বিবরণ দিতে হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষ অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অবশ্য হোয়াইট হাউসে এই ধরনের ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থা এবারই প্রথম নয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান বিমান হামলা থেকে প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে প্রথম ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার’ নামের একটি গোপন বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে স্নায়ুযুদ্ধের শুরুতে সাবেক প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের আমলে এর ব্যাপক সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়। ভারী কংক্রিট ও ইস্পাতে মোড়ানো এই বাঙ্কারে আবাসন, জরুরি খাদ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুব্যবস্থা রয়েছে, যা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা এবং ২০২০ সালে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছিল।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপ্রধানরাই সংকটের সময় এমন ভূগর্ভস্থ সুরক্ষাবলয় ব্যবহার করেছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের উইনস্টন চার্চিল কিংবা স্নায়ুযুদ্ধের সময় কানাডার সরকার যেমন পারমাণবিক হামলা প্রতিরোধী বাঙ্কার তৈরি করেছিল, তেমনি অ্যাডলফ হিটলার, মুয়াম্মার গাদ্দাফি ও সাদ্দাম হোসেনের মতো একনায়করাও চরম সংকটে মাটির নিচের সুরক্ষাকেই বেছে নিয়েছিলেন।
বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগটি বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ সংকট এবং নিরাপত্তার চরম ঝুঁকিতে রাষ্ট্রপ্রধানদের সুরক্ষায় ভূগর্ভস্থ কাঠামোর সেই ঐতিহাসিক গুরুত্বকেই পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।