বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, পাস চার হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, পাস চার হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী
ছবি : Collected

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ এবং পুনর্মূল্যায়নের চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফল পর্যালোচনার পর পূর্বে অকৃতকার্য হওয়া চার হাজার পাঁচশত পঁচাশি জন শিক্ষার্থী নতুন করে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

 

একইসঙ্গে সামগ্রিক ফলাফল পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন করে সর্বোচ্চ ফলাফল বা জিপিএ পাঁচ অর্জন করেছেন তিন হাজার উনআশি জন শিক্ষার্থী। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বরে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার দেশের এগারোটি শিক্ষা বোর্ডের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে একযোগে এই সংশোধিত ফলাফল উন্মুক্ত করা হয়। ফলাফল প্রকাশের পাশাপাশি আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে সংক্ষিপ্ত বার্তার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিবর্তিত ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

 

আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সমন্বিত ওয়েবসাইট থেকেও বিস্তারিত ফলাফল সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, গত দশ আগস্ট চলতি বছরের মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার মূল ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই হিসাবে মূল ফলাফল প্রকাশের ঠিক একত্রিশ দিন পর এই পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল জনসমক্ষে এলো।

 

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গত সতেরো আগস্ট রাতে ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার চব্বিশ দিনের মাথায় দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলো নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করল।

 

চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অভূতপূর্ব সাড়া লক্ষ্য করা যায়, যার ফলে শিক্ষা বোর্ডগুলোতে জমা পড়ে নজিরবিহীন সংখ্যক আবেদন।

 

প্রাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট এগারোটি শিক্ষা বোর্ডে চার লাখ দুই হাজার একান্ন জন পরীক্ষার্থী তাদের ফলাফল পুনর্বিবেচনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জমা দিয়েছিলেন।

 

একজন শিক্ষার্থীর একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ থাকার কারণে মোট আবেদনকৃত খাতার সংখ্যা শিক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ছিল। বোর্ডগুলোর সমন্বিত হিসাব থেকে জানা যায়, লিখিত বা তত্ত্বীয় পরীক্ষার মোট দশ লাখ ছাপ্পান্ন হাজার চারশত পঞ্চান্নটি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার দুই লাখ একত্রিশ হাজার চারশত একাত্তরটি খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন জমা পড়ে।

 

ফলে সব মিলিয়ে মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়ায় বারো লাখ সাতাশি হাজার নয়শত ছাব্বিশটিতে, যা দেশের মাধ্যমিক পরীক্ষার ইতিহাসে একটি বিরল নজির স্থাপন করেছে। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের উত্তরপত্র মূল্যায়নে প্রথাগত ধারার বাইরে এসে যুগান্তকারী এক সংস্কার আনা হয়েছে।

 

অতীতে পুনঃনিরীক্ষণের ক্ষেত্রে কেবল উত্তরপত্রে প্রদত্ত নম্বরের যোগফল ঠিক রয়েছে কি না কিংবা কোনো প্রশ্নের মূল্যায়ন বাদ পড়েছে কি না, তা যাচাই করার নিয়ম প্রচলিত ছিল। সম্পূর্ণ খাতা পুনরায় পাঠ করে নতুনভাবে মূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ সেখানে ছিল না।

 

তবে এবার শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো আবেদনকৃত উত্তরপত্রগুলোর সামগ্রিক পুনর্মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা অটুট রাখতেই এবার গভীর মনোযোগের সঙ্গে প্রতিটি খাতা নতুন করে যাচাই করা হয়েছে, যার সুফল বহু শিক্ষার্থী পেয়েছেন।

 

বোর্ডভিত্তিক আবেদন বিশ্লেষণের চিত্রে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই একক বোর্ডে চুরানব্বই হাজার দুইশত ছত্রিশ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার দুই লাখ সাতাত্তর হাজার ছয়শত পঁয়ষট্টিটি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার আটান্ন হাজার বারোটি উত্তরপত্র যাচাইয়ের অনুরোধ জানান।

 

অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডে পঁয়ত্রিশ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে উনচল্লিশ হাজারের বেশি, যশোরে আটাশ হাজারের বেশি এবং চট্টগ্রামে উনচল্লিশ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন।

 

এছাড়া বরিশাল বোর্ডে সতেরো হাজার, সিলেটে বিশ হাজার, দিনাজপুরে সাঁইত্রিশ হাজার এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে সাতাশ হাজার ছয়শত ছিয়াত্তর জন পরীক্ষার্থী ফল পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা দেন।

 

সাধারণ বোর্ডের বাইরে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে চল্লিশ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বিশ হাজারের অধিক প্রার্থী নিজেদের উত্তরপত্র পর্যালোচনার আবেদন করেছিলেন। চলতি বছর অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের গড় হার ছিল বাষট্টি দশমিক পঁচিশ শতাংশ, যা গত উনিশ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হারের এক হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরেছিল।

 

সামগ্রিক ফলাফলের এই আকস্মিক অবনমনের কারণে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ফলাফলের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত খাতা পর্যালোচনার শরণাপন্ন হন। শিক্ষার্থীদের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ পেল পুনর্মূল্যায়নের সামগ্রিক চিত্র, যা বহু পরিবারের মুখে নতুন করে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে এনেছে।