শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে বাবার স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

কক্সবাজারে বাবার স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ চব্বিশ বছর পর উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সকালে ঢাকা থেকে একটি বেসরকারি যাত্রীবাহী বিমানে করে তিনি সৈকত নগরীতে পৌঁছান।

 

এই সফরের প্রথম প্রহরেই তিনি তাঁর বাবা এবং দেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ এবং উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

 

প্রধানমন্ত্রীর এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সফর এবং খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের পিএমখালী এলাকায় সকাল থেকেই এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

 

প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ভারী বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও দলের নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পাতলী খাল পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন।

 

হাতে নানা ধরনের ব্যানার এবং প্রচারপত্র নিয়ে তারা তাদের প্রিয় নেতাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে স্থানীয়দের কাছে এই খালের ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব কতখানি গভীর।

 

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থার যুগান্তকারী উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

 

পিএমখালী এলাকার এই পাতলী খালটি সেই দূরদর্শী উদ্যোগেরই এক অন্যতম জীবন্ত সাক্ষী। ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে জিয়াউর রহমান নিজে উপস্থিত থেকে এই খালের খননকাজের উদ্বোধন করেছিলেন।

 

বাবার সেই ঐতিহাসিক এবং কৃষিবান্ধব উদ্যোগকে স্মরণ করে ও স্থানীয় কৃষকদের পানির দীর্ঘদিনের চাহিদা মেটাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের সূচনা করলেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

 

কক্সবাজারের এই স্থানীয় উদ্যোগটি মূলত বর্তমান সরকারের দেশব্যাপী পরিচালিত একটি বৃহত্তর এবং দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশে প্রায় বিশ হাজার কিলোমিটার খাল খননের এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এই মহাপরিকল্পনার প্রথম ধাপে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত এক হাজার দুইশত চার কিলোমিটার খাল খননের কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, সরকারের এই বিশাল উদ্যোগ কেবল খাল খননের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

 

পরিবেশের সার্বিক ভারসাম্য রক্ষার্থে খালের দুই পাড় সংরক্ষণ, ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপণ এবং খালের জায়গা থেকে সকল প্রকার অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার বিষয়েও কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

 

কক্সবাজারে দিনব্যাপী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে শনিবার রাতেই বিমানে করে প্রধানমন্ত্রীর রাজধানী ঢাকায় ফিরে আসার কথা রয়েছে।

 

তাঁর এই সফর কক্সবাজারের সাধারণ মানুষের মাঝে যে বিপুল উৎসাহের জন্ম দিয়েছে, তা আগামী দিনে এই অঞ্চলের কৃষি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এক নতুন গতি আনবে বলে দৃঢ়ভাবে আশা করা হচ্ছে।