একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই হার পনেরো শতাংশে নিয়ে যাওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনে এক সংসদীয় প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
সংসদ অধিবেশনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহ তার উত্থাপিত প্রশ্নে উল্লেখ করেন যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র সাত দশমিক তিন থেকে আট শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
অথচ প্রতিবেশী দেশ নেপালের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট অর্থনীতির দেশেও এই হার তেইশ দশমিক এক শতাংশ। এই বিশাল ব্যবধান কমিয়ে আনতে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ রয়েছে কি না, তা তিনি জানতে চান।
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত না থাকায় সংসদীয় রীতি অনুযায়ী তার পক্ষে এই বিস্তারিত ও তথ্যবহুল লিখিত উত্তরটি টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, দেশে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কাঠামোগতভাবে বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এরই মধ্যে একটি 'মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব কৌশল' আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে।
কর প্রশাসনের সার্বিক কার্যক্রমকে ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনার পাশাপাশি অনলাইনে উৎসে কর কর্তনের ব্যবস্থাপনা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের রাজস্ব ব্যয় হ্রাস করতে অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় ও অব্যাহতি পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এছাড়া সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার্থে কর আইনগুলোকে অনেক বেশি সরল ও সহজবোধ্য করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে করঝুঁকি নির্ণয় এবং শিল্পখাতভিত্তিক গড় সূচক ব্যবহার করে আধুনিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
নাগরিক সেবা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে করদাতাদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর অনলাইন সেবা চালু এবং কর আইন পরিপালনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, 'কর ব্যয় নীতি ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো ২০২৬' প্রণয়ন এবং এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজস্ব ক্ষতি যথাসম্ভব কমিয়ে আনা হবে।
ছাড়পত্র-পরবর্তী নিরীক্ষা, বকেয়া রাজস্ব ও মামলা নিষ্পত্তি, নিলাম, জাতীয় শুল্ক নীতি ২০২৩-এর প্রয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ জোরদারকরণ প্রকল্পের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাতের এই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে অত্যন্ত আশাবাদী।