বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রধানমন্ত্রী

দেশের উন্নয়নে জনগণের সতর্কতাই যথেষ্ট, সরকার জনকল্যাণে কাজ করছে

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

দেশের উন্নয়নে জনগণের সতর্কতাই যথেষ্ট, সরকার জনকল্যাণে কাজ করছে
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ এবং তাদের সার্বক্ষণিক সতর্কতাই রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দেশের আপামর জনসাধারণ সচেতন ও সজাগ থাকলে যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে আলাদাভাবে কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে না।

 

বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর তৃতীয় পর্যায়ের বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ওপর গভীর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন, যুগোপযোগী শিক্ষার প্রসার, নারীদের সার্বিক ক্ষমতায়ন এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

 

তবে এই বৃহৎ লক্ষ্য অর্জনে শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা অপরিহার্য। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই দেশ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা বিশেষ পরিবারের সম্পদ নয়, বরং এটি বিশ কোটি সাধারণ মানুষের বাংলাদেশ।

 

এই বিশাল জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন হলেই কেবল দেশের প্রকৃত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। বর্তমান সরকারের বহুমুখী জনকল্যাণমূলক ও গঠনমূলক পদক্ষেপের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, প্রায় চার কোটি পরিবারের নারীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড এবং তিন কোটি কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এর পাশাপাশি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন পোশাক এবং ধর্মীয় সেবকদের জন্য বিশেষ সম্মানীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী পঁচিশ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং খাল পুনঃখননের মতো বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে ইতিমধ্যে কর কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে অর্থের উৎস সম্পর্কে জনমনে থাকা প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ আর কখনোই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না।

 

এখন থেকে দেশের প্রতিটি পয়সা কেবল দেশের মানুষের সামগ্রিক কল্যাণেই স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় করা হবে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে যখনই দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত উন্নতির পথে অগ্রসর হয়েছে, তখনই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

 

মাসের পর মাস টানা হরতাল, অবরোধ ও ভাঙচুরের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নকে নির্মমভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তিনি কড়া সমালোচনা করে বলেন, যারা বর্তমান সরকারকে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে নারাজ, তারা মূলত জনগণের স্বার্থে নয়, বরং নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টায় লিপ্ত।

 

তিনি আবেগঘন কণ্ঠে স্মরণ করিয়ে দেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে যারা গুম, খুন, জেল-জুলুম ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের বিশাল একটি অংশই বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী।

 

জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত আগামী পাঁচ বছরের রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দায়িত্বকে একটি বড় আমানত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।

 

সবশেষে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সাহসী জনসাধারণই বারবার স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখেছে, তাই আগামী দিনে তারাই এই দেশটিকে নতুন করে গড়ে তুলবে।

 

ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা সম্পর্কে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আগামী দিনে তাদের রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য হবে দেশ গড়ার রাজনীতি। ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’-এটাই হবে নতুন প্রজন্মের জন্য তাদের সর্বোচ্চ অঙ্গীকার।