বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অখণ্ডতা রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করার লক্ষ্যে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কঠোরভাবে দমন করা এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ স্থায়ীভাবে ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

অধিবেশনে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস তাঁর একটি লিখিত প্রশ্নের মাধ্যমে বিগত সরকারের ষোলো বছরের শাসনামলে সীমান্তে হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বৃদ্ধির বিষয়টি উত্থাপন করেন।

 

তিনি এসব অপরাধ নির্মূলে বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট ও কার্যকরী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। এই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্তমানে একটি সমন্বিত ও যুগোপযোগী কৌশল বাস্তবায়ন করছে।

 

সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সম্পূর্ণ ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা ভয়াবহ সব মাদকদ্রব্য এবং অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 

আন্তঃদেশীয় অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আইনি প্রক্রিয়াও বর্তমানে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান রয়েছে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

 

সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র ও ত্রুটিমুক্ত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত দুর্গম ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নতুন সীমান্ত ফাঁড়ি ও সুরক্ষামূলক চৌকি নির্মাণ করা হয়েছে।

 

এর ফলে এই ফাঁড়িগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব আগের চেয়ে অনেক কমে আসায় সীমান্তরক্ষীদের নিয়মিত টহল কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, যা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও অপরাধ মোকাবিলায় বাহিনীকে দ্রুততম সময়ে সাড়া প্রদানে ব্যাপকভাবে সহায়তা করছে।

 

সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষকে চোরাচালানের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করতে এবং অপরাধীদের সম্পর্কে গোপন তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে নিয়মিত ও ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের একেবারে শেষাংশে উল্লেখ করেন যে, মিয়ানমার সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভারতের সাথে থাকা স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতেও অনুরূপভাবে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের একটি সুদূরপ্রসারী ও কার্যকরী পরিকল্পনা বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে, যা অচিরেই বাস্তবায়নের মুখ দেখবে।