রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই বৃহত্তর প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেওয়া দেশসেরা খুদে খেলোয়াড়দের অসামান্য ক্রীড়ানৈপুণ্য দর্শকসারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এদিন বিকেল চারটার দিকে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে প্রবেশের পর তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং তাদের উষ্ণ অভিবাদনের জবাব দেন।
প্রান্তিক পর্যায় থেকে আগত এই ভবিষ্যৎ তারকাদের উৎসাহ দিতে সরকারপ্রধানের এমন সরাসরি উপস্থিতি মাঠে উপস্থিত সকলের মাঝে এক বাড়তি উন্মাদনা ও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করে।
সারা দেশের ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে দীর্ঘ ও তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়া শেষে মাত্র চারটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই চূড়ান্ত পর্বে খেলার বিরল গৌরব অর্জন করে।
প্রতিযোগিতার বালিকা বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী খেলায় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হয় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রধানমন্ত্রী দর্শকসারিতে বসে অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে বালিকাদের এই রোমাঞ্চকর খেলাটি উপভোগ করেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত হওয়ার ঠিক আগেই বালক বিভাগের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শিরোপা নির্ধারণী খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
ওই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জয়ের অনন্য গৌরব অর্জন করে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দেশব্যাপী আলোড়ন তোলা এই প্রতিযোগিতার বিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল ক্রীড়া মহাযজ্ঞে দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২২ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে।
এর মধ্যে ১১ লাখেরও বেশি ছাত্র এবং সমসংখ্যক ছাত্রী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের প্রতিভা প্রমাণের সুযোগ পেয়েছে। একেবারে প্রান্তিক গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কঠিন লড়াই পেরিয়ে সেরা দলগুলো ঢাকার এই চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে আরও জানান, তৃণমূল থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের এই মহতী উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে আয়োজন করা হবে।
দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাদের বৃহত্তর মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করতে আগামী আসরে দেশব্যাপী অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি উচ্চাভিলাষী ও যুগান্তকারী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।