রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন অনিবার্য বিপ্লবের ডাক দিলেন জামায়াত আমির

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

নতুন অনিবার্য বিপ্লবের ডাক দিলেন জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

শনিবার খুলনায় আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনে আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ জন্য দেশবাসীকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় স্পষ্ট করেন যে, আগামীর এই বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কিংবা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা পরিবারকে তোষামোদ করার জন্যও নয়।

 

বরং বিশ্বদরবারে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, শক্তি ও সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মহান লক্ষ্যেই এই বিপ্লব পরিচালিত হবে। খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে আয়োজিত এই সমাবেশে যুবসমাজের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হতে হবে সম্পূর্ণরূপে শোষণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত।

 

একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তারা জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

 

দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপিকে নিজেদের রাজনৈতিক ভুল সংশোধন করে দ্রুত জনগণের কাতারে ফিরে আসার এবং জনরায়কে সম্মান জানানোর উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। অতীতের রাজনৈতিক ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে এর পরিণতি কখনোই শুভ হবে না বলেও তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করেন।

 

সাম্প্রতিক নির্বাচনের বিতর্কিত ফলাফল প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বলেন, দেশে যেন কোনোভাবেই অনাকাঙ্ক্ষিত গৃহযুদ্ধ শুরু না হয় এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, কেবল সেই বৃহত্তর স্বার্থেই তারা শত বঞ্চনা ও যন্ত্রণা বুকে নিয়েও নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছেন।

 

তবে জাতীয় সংসদে তারা জনগণের লুণ্ঠিত অধিকার আদায়ে প্রবলভাবে লড়াই চালিয়ে যাবেন। যদি সংসদে জনগণের ন্যায্য অধিকারের সুষ্ঠু সমাধান না হয়, তবে রাজধানীসহ খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, রংপুরের মতো দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে তীব্র গণআন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

 

অন্যায়ের কাছে কখনোই মাথা নত না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে দেশের আপামর জনতা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতেও সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

 

দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও সুস্পষ্ট বার্তা দেন জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা। তিনি বর্তমান সরকারকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, কোনো আধিপত্যবাদী পরাশক্তির কাছে দেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিলে সাধারণ জনগণ তা কখনোই মেনে নেবে না।

 

সীমান্তে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শান্তি বিনষ্ট করতে চায় না। তবে কেউ যদি বাংলাদেশের দিকে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসে, তবে দেশের ২০ কোটি মানুষ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিবেদিত সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে তার সমুচিত ও কঠোর জবাব দেবে।

 

জনদুর্ভোগ লাঘব এবং গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত এই তাৎপর্যপূর্ণ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

 

এতে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।