প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর এই যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ বিদেশ সফরে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। তাঁদের পাশাপাশি সরকারের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচিত উপদেষ্টা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা এই উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর। এই সফরের আরেকটি বিশেষত্ব হলো, তিনি একই যাত্রায় এশিয়ার দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রে পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রীয় সফর করবেন।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২১ ও ২২ জুন তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করবেন এবং সেখানকার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীনে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফর অনুষ্ঠিত হবে। সম্পূর্ণ সফর শেষে আগামী ২৬ জুন তাঁর স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা এই দ্বৈত রাষ্ট্রীয় সফরটিকে ঢাকা, কুয়ালালামপুর এবং বেইজিংয়ের মধ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন এবং সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একটি শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন।
অত্যন্ত গুরুত্ববহ এই আলোচনায় মালয়েশিয়ার বিশাল শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রোহিঙ্গা সংকটের মতো সংবেদনশীল আঞ্চলিক ইস্যুগুলো সর্বাধিক অগ্রাধিকার পাবে বলে গভীরভাবে আশা করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সফর সফলভাবে সমাপ্ত করার পর বেইজিংয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন মাত্রা পাবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
সরকারি পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও উন্নয়নের স্বার্থে অন্তত ১৫ থেকে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক দলিল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত এসব দলিলের মধ্যে প্রায় ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, একটি সুনির্দিষ্ট অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল সরাসরি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামগ্রিকভাবে এই সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে অভিজ্ঞ মহল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।