বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি

সায়েন্সল্যাব থেকে সচিবালয় অভিমুখে শিক্ষার্থীদের লংমার্চ

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

সায়েন্সল্যাব থেকে সচিবালয় অভিমুখে শিক্ষার্থীদের লংমার্চ
ছবি: সংগৃহীত

চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখার সুনির্দিষ্ট দাবিতে রাজধানী ঢাকার রাজপথে নেমে এসেছেন পরীক্ষার্থীরা।

 

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার, ১৫ জুলাই দুপুরে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে জড়ো হন শত শত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী। সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর, নিজেদের দাবি আদায়ে তারা সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সচিবালয় অভিমুখে এক দীর্ঘ পদযাত্রা বা লংমার্চ শুরু করেছেন।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মানদণ্ড অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত ও প্রতিবাদী পদযাত্রা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল হলেও তা রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সাময়িক যানজট ও নাগরিক জীবনে কিছুটা প্রভাব ফেলেছিল।

 

সরেজমিনে উপস্থিত থেকে দেখা যায়, বুধবার বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব এলাকার সড়ক ছেড়ে একটি সুসংগঠিত মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেন।

 

এর আগে, মূল সড়কে অবস্থান নেওয়ার সময় পরীক্ষার্থীরা তাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর সপক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলেন।

 

শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদী পদযাত্রায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে মিছিলের সামনে ও চারপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে অত্যন্ত সতর্ক পাহারায় অবস্থান করতে দেখা যায়।

 

তারা শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোনো বাধা না দিয়ে বরং পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। আন্দোলনরত এই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মূল ক্ষোভ মূলত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।

 

তাদের উত্থাপিত তিন দফা দাবি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। প্রথমত, দেশের বর্তমান দুর্যোগ ও বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি এবং এর সমমানের সব পরীক্ষা অবিলম্বে স্থগিত ঘোষণা করতে হবে।

 

দ্বিতীয়ত, চরম বৈরী আবহাওয়া ও দুর্যোগের কারণে গত ১৩ জুলাই যেসব পরীক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি বা পরীক্ষায় অংশ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের শিক্ষাজীবন রক্ষার্থে বিশেষ ব্যবস্থায় পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

 

তৃতীয়ত ও সর্বশেষ দাবি হিসেবে তারা বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার গ্রহণ করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দ্রুত পদত্যাগ দাবি করেছেন। লংমার্চে অংশগ্রহণকারী সাধারণ পরীক্ষার্থীরা নিজেদের ক্ষোভ ও হতাশার কথা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন।

 

প্রতিবাদী এই মিছিলে অংশ নেওয়া সাব্বির আহমেদ নামের এক পরীক্ষার্থী তার বক্তব্যে বলেন, তারা সেখানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে আসেননি, বরং অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের অধিকার ও যৌক্তিক দাবি জানাতে রাজপথে নেমেছেন।

 

যেহেতু এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাদের তিন দফা দাবির কোনোটিই পূরণ করা হয়নি, তাই তারা বাধ্য হয়ে সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে নিজেদের কথাগুলো তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

একই সুরে কথা বলেন নূরনন্নবী নামের অপর এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী। বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যখন বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ চলছে, ঠিক সেই অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যেই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

 

এর ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থী অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হয়েছে এবং অনেকেই সঠিক সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। তাদের দাবিগুলো সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক দাবি করে তিনি আহ্বান জানান, সরকার যেন কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করে।

 

পদযাত্রা থেকে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে অবিরাম নানা ধরনের প্রতিবাদী স্লোগান ধ্বনিত হতে শোনা যায়। মিছিলে তারা ‘দফা এক, দাবি এক-শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’ এবং ‘তুমি কে, আমি কে—ফার্মের মুরগি’ সহ সমসাময়িক বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নিজেদের দাবি ও অধিকারের কথা তুলে ধরেন।

 

তাদের হাতে থাকা অসংখ্য প্ল্যাকার্ডে পরীক্ষা স্থগিত এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগের সুস্পষ্ট বার্তা লেখা ছিল, যা পথচারী ও সাধারণ মানুষের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এদিকে, শিক্ষার্থীদের এই বিশাল জমায়েত ও সড়ক অবরোধের ফলে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়, মিরপুর রোড, ব্যস্ততম এলিফ্যান্ট রোড এবং শাহবাগমুখী প্রধান সড়কগুলোতে বেশ কিছুক্ষণের জন্য তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল।

 

শত শত যানবাহন রাস্তায় আটকা পড়ায় সাধারণ যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে বিকেল তিনটার পর পরীক্ষার্থীরা যখন তাদের লংমার্চ নিয়ে সায়েন্সল্যাব এলাকা ত্যাগ করে সচিবালয়ের দিকে রওনা হন, তখন ওই এলাকার অবরুদ্ধ সড়কগুলোতে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

 

পরিস্থিতি পুনরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদী কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ।