মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দর আগামী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর!

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

সুন্দর আগামী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর!
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিজেদের যোগ্য ও সুদক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত দেশব্যাপী মেধা ও প্রতিভা অন্বেষণের বৃহৎ আসর ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

 

আন্তর্জাতিক মানের এই সুবিশাল আয়োজনে উপস্থিত হাজারো খুদে ক্রীড়াবিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্নেহপূর্ণ কণ্ঠে বলেন, আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে পারলেই আগামী দিনের একটি আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

 

তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, গ্যালারিতে উপস্থিত এই শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের বিশ্বমানের চিকিৎসক, স্থপতি, প্রকৌশলী এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন খেলোয়াড় তৈরি হবে। নিজেদের কখনো ছোট বা তুচ্ছ না ভেবে, আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি শিশুদের মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন।

dhakapost

দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধারদের এই সুবিশাল জমায়েতকে জাতীয় গণমাধ্যমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রচারের জন্য সংবাদমাধ্যমের নীতিনির্ধারকদের প্রতি বিশেষ ও বিনীত অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। মুদ্রণ ও সম্প্রচার মাধ্যমের সম্পাদক এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক বা অন্যান্য প্রচলিত বিষয় প্রধান সংবাদ হিসেবে প্রকাশিত হয়।

 

কিন্তু দেশের প্রকৃত ভবিষ্যৎ যেহেতু এই শিশু-কিশোররাই, তাই তাদের এই বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা ও ক্রীড়ানুরাগের খবরটিকে আগামীকালের প্রধান সংবাদ হিসেবে তুলে ধরা উচিত। একই সঙ্গে, দেশের শিক্ষা খাতের বিদ্যমান নানা সীমাবদ্ধতার কথা অত্যন্ত অকপটে স্বীকার করে সরকারপ্রধান বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে এখনো পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, এমনকি অনেক শ্রেণিকক্ষে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমেও বৈদ্যুতিক পাখা ঘোরে না।

 

তবে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ধাপে ধাপে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও উন্নত রূপ দেওয়া যায়।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজার হাজার শিশু-কিশোরকে দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার শপথ নিতে উৎসাহিত করেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি শিশুদের কাছে জানতে চান, তারা দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত কি না।

নিজেকে গড়ে তোলো, তোমরাই গড়বে সুন্দর বাংলাদেশ

এ সময় গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো শিশু একসঙ্গে দুই হাত তুলে বিপুল হর্ষধ্বনির মাধ্যমে সম্মতি জানালে পুরো স্টেডিয়ামে এক অভূতপূর্ব, উদ্দীপনামূলক ও আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পড়ার সময়ে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা এবং খেলার সময়ে পূর্ণোদ্যমে খেলার পরামর্শ দেন।

 

পাশাপাশি দেশের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় নতুন প্রজন্মের সরাসরি অংশগ্রহণ ও সচেতনতা কামনা করেন তিনি। যত্রতত্র বা পুকুর-নদীতে প্লাস্টিকের বোতল ও ময়লা-আবর্জনা না ফেলার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সবার নৈতিক দায়িত্ব।

 

কেউ জলাশয়ে বর্জ্য ফেললে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে তা পরিষ্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দূষণমুক্ত বিশুদ্ধ বাতাস ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর নিজ বাড়ি বা বিদ্যালয়ের আঙিনায় অন্তত একটি করে বৃক্ষরোপণ করার বিশেষ অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

শিশুদের সার্বিক মেধা বিকাশে সরকার সবসময় পাশে থাকবে বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, পড়াশোনার পাশাপাশি যারা সংগীত, চিত্রকলা বা খেলাধুলায় নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চায়, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

 

দীর্ঘ এই প্রতিযোগিতামূলক পথপরিক্রমায় ক্ষুদে প্রতিযোগীদের নিরন্তর উৎসাহ দেওয়ার জন্য তাদের বাবা-মা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সহায়তাকারী কোচদের প্রতি তিনি অন্তরের অন্তস্তল থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

dhakapost

অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ট্রফি, পদক ও আর্থিক পুরস্কারের চেক তুলে দেন। এবারের আসরে ফুটবলের চূড়ান্ত লড়াইয়ে অসামান্য নৈপুণ্য প্রদর্শন করে বালকদের মধ্যে সিলেট অঞ্চল এবং বালিকাদের মধ্যে রংপুর অঞ্চল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

 

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে এবং ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলমের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

তাদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, মীর হেলাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অন্যতম।

 

উল্লেখ্য, গত ২ মে পুণ্যভূমি সিলেটের জেলা স্টেডিয়ামে এই ঐতিহাসিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। এরপর সারা দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা থেকে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বাছাইকৃত ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় এক লাখ সত্তর হাজার উদীয়মান ক্রীড়াবিদ মোট আটটি ভিন্ন ভিন্ন ক্রীড়া বিভাগে দীর্ঘ ও ধারাবাহিক প্রতিযোগিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। জাতীয় পর্যায়ের এই অসামান্য প্রতিভার লড়াইয়ের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটল রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে।