মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্মি স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর সমাপনী, বিজয়ীদের পুরস্কৃত করলেন প্রধানমন্ত্রী!

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

আর্মি স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর সমাপনী, বিজয়ীদের পুরস্কৃত করলেন প্রধানমন্ত্রী!
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ, সবল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের এক অনন্য উদ্যোগ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’। দেশব্যাপী আয়োজিত এই সুবিশাল ক্রীড়া মহাযজ্ঞের জাতীয় পর্বের বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত সমাপনী অনুষ্ঠান আজ অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

 

সোমবার, ২৭ জুলাই বিকেলে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চূড়ান্ত বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার অপরিহার্যতা এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের গভীর মনোযোগের বিষয়টি এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো সাধারণত রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের এ ধরনের গণমুখী, শিশুতোষ ও অনুপ্রেরণামূলক কর্মকাণ্ডকে সমাজ গঠনের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকে।

 

চলতি বছরের এই বৃহৎ ক্রীড়া আসরটি ‘স্বপ্নের পথে, বিজয়ের সাথে’-এই অত্যন্ত সময়োপযোগী ও উদ্দীপনামূলক স্লোগানকে ধারণ করে পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’, যা দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে খেলাধুলাকে কেবল নিছক বিনোদন নয়, বরং একটি সম্মানজনক ও লাভজনক পেশা হিসেবে গ্রহণ করার অত্যন্ত শক্তিশালী বার্তা প্রদান করে।

 

সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত হলে পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে এক অভূতপূর্ব উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আর্মি স্টেডিয়ামের সুবিশাল মাঠ পায়ে হেঁটে প্রদক্ষিণ করেন এবং গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো শিশু-কিশোর ও দর্শনার্থীদের অভিবাদনের অত্যন্ত উষ্ণ ও বিনম্র জবাব দেন।

 

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহীর এমন স্নেহশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণ উপস্থিত শিশু-কিশোর, অভিভাবক ও সাধারণ দর্শকদের গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের একেবারেই কাছাকাছি চলে যান এবং তাদের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কুশল বিনিময় করেন।

 

তিনি অত্যন্ত স্নেহভরে নিজ হাতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা এই খুদে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে হাত মেলান এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর এই অপ্রত্যাশিত ও পরম স্নেহপূর্ণ সান্নিধ্য পেয়ে স্কুলপড়ুয়া খুদে শিক্ষার্থীরা দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, যা পুরো আয়োজনে এক আবেগঘন ও সংবেদনশীল পরিবেশের সৃষ্টি করে।

 

দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধারদের প্রতি রাষ্ট্রপ্রধানের এই সরাসরি মনোযোগ ও হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ তাদের আগামী দিনে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম করতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে বলে উপস্থিত শিক্ষাবিদ ও অভিজ্ঞ ক্রীড়া বিশ্লেষকরা তাদের সুচিন্তিত অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

 

ক্রীড়ানুরাগী প্রধানমন্ত্রী কেবল পুরস্কার বিতরণের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই নিজের উপস্থিতিকে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং তিনি অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে মাঠে বসে খুদে ক্রীড়াবিদদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা সরাসরি উপভোগ করেছেন।

 

এর মধ্যে বালিকা বিভাগের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল ফাইনাল ম্যাচ এবং বালক ও বালিকাদের ১০০ মিটার দ্রুতগতির দৌড় প্রতিযোগিতা অন্যতম ছিল। তরুণ অ্যাথলিটদের অদম্য প্রাণশক্তি ও জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রধানমন্ত্রীকে বিমোহিত করে।

 

তীব্র উত্তেজনাকর এসব খেলা শেষে তিনি নিজে মাঠে গিয়ে বিজয়ী ও বিজিত সকল শিশু-কিশোরকে উৎসাহ প্রদান করেন এবং চূড়ান্ত বিজয়ীদের হাতে পরম মমতায় আকর্ষণীয় ট্রফি ও সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন।

 

খেলাধুলার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও মনোজ্ঞ শারীরিক কসরত প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যা প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ ও আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করেন।

 

এই বিশাল আয়োজনের নেপথ্যের পরিসংখ্যানটিও অত্যন্ত চমকপ্রদ ও অনুপ্রেরণাদায়ক। জানা যায়, গত ২ মে পুণ্যভূমি সিলেটের জেলা স্টেডিয়ামে আঞ্চলিক পর্বের জমকালো উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর এই প্রথম ও ঐতিহাসিক আসরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল।

 

এরপর দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও জেলা পর্যায় থেকে বাছাইকৃত ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় এক লাখ সত্তর হাজার উদীয়মান ও খুদে ক্রীড়াবিদ এই প্রতিযোগিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। তারা মোট আটটি ভিন্ন ভিন্ন ক্রীড়া বিভাগে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য দীর্ঘ লড়াই করেছে।

 

তৃণমূল পর্যায় থেকে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও পেশাদার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত প্রতিভা বাছাই শেষে সেরা ক্রীড়াবিদদের নিয়ে ঢাকায় এই চূড়ান্ত বা জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই ধরনের উদ্যোগ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে সক্ষম একটি শক্তিশালী ক্রীড়াবিদ প্রজন্ম তৈরিতে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃঢ় বিশ্বাস।