বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিনেত্রী বাঁধনকে সর্বোচ্চ আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা দেবে সরকার

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

অভিনেত্রী বাঁধনকে সর্বোচ্চ আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা দেবে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র ইতালিতে বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রবাসে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে সরকার এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সরকারের এই সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল অবস্থানের কথা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।

 

তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানান যে, ইতালির মিলানে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট ইতোমধ্যে এই স্পর্শকাতর বিষয়টিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে এবং ভুক্তভোগী অভিনেত্রীকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে।

 

বিদেশের মাটিতে দেশের একজন স্বনামধন্য শিল্পীর সঙ্গে এমন অমার্জনীয় আচরণের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ইতালির ভেনিস শহরে ঘটে যাওয়া ওই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরপরই মিলানে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয় থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

 

সেখানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দায়ের করা অভিযোগ ও মামলা পরিচালনার সার্বিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাকে সার্বক্ষণিক ও নিবিড় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

 

শামা ওবায়েদ ইসলাম অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন যে, আইনি লড়াইয়ের প্রয়োজনে অভিনেত্রী বাঁধন যতদিন ইতালির ভূখণ্ডে অবস্থান করবেন, ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার এবং সেখানে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশন তাকে শতভাগ মানসিক, আইনি ও কাঠামোগত সহায়তা দিয়ে যাবে।

 

বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যাতে অসহায় বোধ না করেন এবং আইনি জটিলতায় পড়ে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটি নিশ্চিত করতেই সরকার ও দূতাবাসগুলো সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জোরালোভাবে উল্লেখ করেন।

 

বিদেশের মাটিতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভবিষ্যৎ ভিসা প্রক্রিয়া বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কি না-সাংবাদিকদের এমন এক প্রাসঙ্গিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এক ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন।

 

তিনি বলেন, জীবিকা, উচ্চশিক্ষা বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশিরা যখনই বিদেশের মাটিতে পা রাখেন, তখন তাদের সর্বপ্রথম দায়িত্ব হলো সেই নির্দিষ্ট দেশের নিজস্ব নিয়ম-কানুন, প্রচলিত আইন এবং সামাজিক নীতি-রীতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল হয়ে জীবনযাপন করা।

 

এটি আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের একটি অত্যন্ত সাধারণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষার্থী, সম্মানিত ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবীরা যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান, তখন তারা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দেশের স্থানীয় আইন মেনে চলেন।

 

ইতালির ক্ষেত্রেও এর কোনো ব্যতিক্রম হওয়া উচিত নয়। প্রবাসী নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণই বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। ভেনিসে ঘটে যাওয়া এই জঘন্য ও নিন্দনীয় হামলার তীব্র ধিক্কার ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সহিংস আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, যখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার ঘটনা ঘটে এবং তাতে কোনো বাংলাদেশির নাম জড়িয়ে পড়ে, তখন তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমগ্র বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে এবং দেশকে ছোট করে।

 

তিনি অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, বাংলাদেশ সরকার যেকোনো ধরনের সহিংসতা, অরাজকতা এবং বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সর্বদা শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে। প্রবাসে অবস্থানরত মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের দায় কখনোই সমগ্র জাতি নিতে পারে না।

 

তাই যারা এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় আইনের পাশাপাশি প্রয়োজনে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণেও সরকার পিছপা হবে না বলে প্রচ্ছন্ন বার্তা দেওয়া হয়।

 

পরিশেষে শামা ওবায়েদ ইসলাম অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সরকারের সার্বিক সুরক্ষা নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কেবল এই একটি নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

 

পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে, যেকোনো দেশে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যদি কোনো ধরনের বিপদ, অরাজকতা বা ন্যক্কারজনক ঘটনার সম্মুখীন হন, তবে রাষ্ট্র তার পূর্ণ শক্তি নিয়ে সেই নাগরিকের পাশে দাঁড়াতে সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

এমনকি খোদ বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও যদি এমন কোনো অনভিপ্রেত ও সহিংস ঘটনা ঘটে, তবে বর্তমান সরকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত শক্ত হাতে ও কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা সামাল দেবেন বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন। সরকারের এই সুস্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত সকল নাগরিকের মনে গভীর স্বস্তি ও নিরাপত্তা বোধ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।