মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ডেঙ্গু ভাইরাসের ক্রমবর্ধমান প্রকোপ, হাসপাতালে রোগীর উপচে পড়া ভিড় ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ঠেকাতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) থেকে দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী এক বিশাল ও বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতামূলক মহাকর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

 

জলবায়ু পরিবর্তন ও অসময়ে বৃষ্টির কারণে এডিস মশার বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় আসন্ন এই তিন মাসকে ডেঙ্গু বিস্তারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশবাসীকে এই কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই অত্যন্ত সময়োপযোগী, বাস্তবমুখী ও জরুরি স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করে একটি সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এটি বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সভায় প্রধানমন্ত্রী এই জাতীয় কর্মসূচির চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রদান করেন।

 

সভায় তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে কেবল প্রথাগত মশকনিধন বা রাসায়নিক ছিটানোর ওপর এককভাবে নির্ভর করলে চলবে না। বরং এর পাশাপাশি দেশজুড়ে ব্যাপকভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে।

 

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে একটি টেকসই ও সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

 

প্রস্তাবিত এই জাতীয় কর্মসূচির প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সুষ্ঠু তদারকির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই রূপরেখা অনুযায়ী, মহানগর এলাকাগুলোতে ডেঙ্গু প্রতিরোধের সার্বিক কার্যক্রম সরাসরি সমন্বয় করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলো।

 

অন্যদিকে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকেরা এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজ নিজ এলাকার সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করবেন।

 

প্রশাসনের এই বিকেন্দ্রীকরণের ফলে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা ও কার্যক্রম সমানভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এই বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি দেশের প্রাণবন্ত তরুণ সমাজকে ব্যাপকভাবে কাজে লাগানো হবে।

 

বাংলাদেশ স্কাউটস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, গার্ল গাইডস এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে স্কুল-কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এই জনকল্যাণমূলক কাজে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নেবেন।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী তিন মাস প্রতি শনিবার এই স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাড়া-মহল্লায় গিয়ে সরাসরি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

 

একইসঙ্গে তারা এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে বিবেচিত পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের পাত্র, ছাদের টব, ডাবের খোসা, টায়ার এবং জমে থাকা স্বচ্ছ পানির অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করবেন। নাগরিক সমাজকে নিজ নিজ বসতবাড়ি ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে উদ্বুদ্ধ করে একটি পরিচ্ছন্নতার সামাজিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তারা সর্বোচ্চ জোর দেবেন।

 

মাঠপর্যায়ের এই প্রত্যক্ষ অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেশব্যাপী একটি জোরালো ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক সম্প্রচার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত নির্ধারক একটি সময়। এই সংকটকালীন মুহূর্তে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

 

তাই বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে প্রতিটি স্থাপনা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সভায় উপস্থিত থেকে তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন।

 

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন।