মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত ও স্থানীয়দের প্রতি রাষ্ট্রপতির বিশেষ আহ্বান

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:১০ পিএম

উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত ও স্থানীয়দের প্রতি রাষ্ট্রপতির বিশেষ আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা অবশেষে বাস্তবে রূপ নিল। উত্তরের প্রান্তিক জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়।

 

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুরে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

এই উৎসবমুখর ও ঐতিহাসিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অবহেলিত এই অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে এক নতুন এবং সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের সূচনা হলো। স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল এক আবেগঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়।

 

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক নানা কথা বলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, উত্তরাঞ্চলের এই জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ছিল স্থানীয় জনসাধারণের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় অঙ্গীকার ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলেই আজ সেই দাবি আলোর মুখ দেখেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 

তাঁর সঠিক, সময়োপযোগী ও বলিষ্ঠ নির্দেশনায় অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়েছে।" তিনি আরও যুক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্থানীয়রাই প্রথম এই যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেছিলেন এবং তাদের সেই অধিকার আজ পরম পূর্ণতা পেল।

 

স্থানীয় জনগণের প্রতি গভীর আস্থা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি এক বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি দেখে রাখবেন, এর সার্বিক খেয়াল রাখবেন। আপনাদের অকৃত্রিম আন্তরিকতার জন্যই আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।"

 

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল ইট-পাথরের প্রাণহীন ভবন নয়, বরং এটি একটি অঞ্চলের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। তাই এর শিক্ষার মান, সুষ্ঠু পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয়দের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর তিনি বিশেষভাবে জোর দেন।

 

শিক্ষার আন্তর্জাতিক গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ও নিরলস প্রয়াসের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত সুবিশাল জমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক বিষয়েও রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

 

তিনি জানান, বিশাল এই কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় জমি শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে নিয়মমাফিক অধিগ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও আনুষঙ্গিক ও পতিত জমি নেওয়া হচ্ছে।

 

এই জটিল প্রক্রিয়ায় নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদানের জন্য তিনি শিল্প মন্ত্রণালয় এবং সুগার মিল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক সাধুবাদ ও ধন্যবাদ জানান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

 

তাঁরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের জন্য যাবতীয় দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঠাকুরগাঁওয়ের মতো একটি সম্ভাবনাময় ও কৃষিনির্ভর অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটলে তা কেবল শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, বরং নতুন নতুন শিল্প ও ব্যাপক কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন।

 

তিনি বলেন, "আমাদের এই এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য আজ এক পরম আনন্দের দিন। উচ্চশিক্ষার এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করব এবং আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ অঞ্চলের মানুষ সেই সুযোগটি যথাযথভাবে গ্রহণ করবেন।"

 

খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ মহাপরিকল্পনা ও উন্নত অবকাঠামোগত কাঠামো প্রণয়ন করা হবে বলেও তিনি উপস্থিত সবাইকে জোরালোভাবে আশ্বস্ত করেন। নতুন এই বিদ্যাপীঠের প্রশাসনিক ও শিক্ষায়তনিক কার্যক্রম প্রাথমিক পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান উপাচার্যের বলিষ্ঠ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

 

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় কার্যাবলি অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছেন। উপাচার্য নিজে এই অঞ্চলেরই কৃতি সন্তান, যাঁর জন্ম পার্শ্ববর্তী আটোয়ারী উপজেলায় এবং তিনি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক ছিলেন।

 

উচ্চশিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান সিন্ডিকেট সদস্যদের সুদক্ষ পরিচালনায় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় খুব দ্রুতই দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষণাধর্মী বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে বলে রাষ্ট্রপতি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

আনুষ্ঠানিক এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও আলোচনা কর্মসূচি শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রামের কথা রয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় সার্কিট হাউসে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

 

এই ঐতিহাসিক দিনটি ঠাকুরগাঁওবাসী চিরকাল গভীর শ্রদ্ধায় ও আনন্দে স্মরণ করবে, কারণ আজ তাদের বহু কাঙ্ক্ষিত একটি স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন হলো, যা আগামী প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে দিল।