শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিভ্রান্তি ও অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

বিভ্রান্তি ও অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও রাজনৈতিক দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

 

শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত একটি বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই কড়া রাজনৈতিক বার্তা ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

 

দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। দেশের চলমান নানা কাঠামোগত সমস্যা ও বিদ্যুৎ সংকটের কথা অকপটে স্বীকার করে তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করেন যে, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বর্তমান সরকার সব ধরনের জাতীয় সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে ও নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

 

সমসাময়িক জাতীয় সংকটগুলো রাতারাতি তৈরি হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বর্তমান বাস্তবতার একটি সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দীর্ঘ দুঃশাসন এবং তার পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া নানামুখী কাঠামোগত ও অর্থনৈতিক সমস্যা বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে।

 

এই পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই এবং সরকার কখনোই দাবি করছে না যে দেশে কোনো সমস্যা নেই। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদ্যমান ত্রুটি ও সংকটগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, জাতির এই যুগসন্ধিক্ষণে যখন সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার প্রয়োজন, তখন কিছু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ও কতিপয় ব্যক্তি এই জাতীয় সংকটগুলোকে নিজেদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন।

 

তারা সাধারণ মানুষের আবেগ ও কষ্টকে পুঁজি করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ ও নৈরাজ্য তৈরি করা। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের প্রতি বর্তমান সরকারের অবিচল আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এই নতুন সরকারকে দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে।

 

জনগণের এই পবিত্র আমানত রক্ষার্থে সরকার যেকোনো মূল্যে দেশে গণতন্ত্রের সুস্থ ধারা ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতিগুলো সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতান্ত্রিক নীতি ও নৈতিকতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

 

একই সঙ্গে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরিকারীদের প্রতি তিনি অত্যন্ত কঠোর ও দ্ব্যর্থহীন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে দেশে অরাজকতা ও সহিংসতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়, তবে দেশের প্রচলিত আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।

 

জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি বৈধ ও দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও নাগরিকের উচিত দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সীমার মধ্যে অবস্থান করা।

 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির দীর্ঘ পথচলা ও দেশ গঠনে দলটির ঐতিহাসিক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

 

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি চরম ক্রান্তিলগ্ন ও জাতীয় সংকটে বিএনপি নামক এই বৃহৎ রাজনৈতিক দলটি কখনোই পিছপা হয়নি; বরং সর্বদা আপামর জনসাধারণ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।

 

অতীত ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশ যখনই কোনো গভীর খাদের কিনারায় গিয়ে পৌঁছেছে, বিএনপি তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেম দিয়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সেই সংকট থেকে দেশকে ধীরে ধীরে আলোর পথে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে।

 

বর্তমান সংকটকালীন সময়েও দলটির সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বর্তমান সরকার যে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক কষ্টগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটে।

 

বিশেষ করে দেশে বিরাজমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানার মালিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং দেশের অগণিত সাধারণ মানুষ যে অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্য তিনি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।

 

তিনি বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রত্যক্ষ দায়িত্বে আসীন, তাই জনগণের যেকোনো দুর্ভোগের দায়ভার তাদেরকেই গ্রহণ করতে হবে। তিনি শিল্প ও উৎপাদন খাতের এই সাময়িক সংকটগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের বিষয়ে জোরালো আশ্বাস প্রদান করেন।

 

‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রেরণাদায়ী স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার বিকেল পৌনে ৪টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এই বর্ণাঢ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে দলের অসংখ্য শীর্ষ নেতা, কর্মী এবং বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যারা আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শপথ গ্রহণ করেন।