বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শূন্য আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শূন্য আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-এক আসনের বহুল প্রতীক্ষিত উপনির্বাচন আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচনের বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

 

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একটি সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার পর সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার যে আইনি বিধান রয়েছে, তারই আলোকে অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

 

জাতীয় সংসদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটির নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের দিকে এখন সারা দেশের রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ ভোটারদের গভীর দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। ঘোষিত আনুষ্ঠানিক তফসিল অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-এক আসনের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর।

 

এরপর নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জমা পড়া মনোনয়নপত্রগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করবেন আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কোনো সিদ্ধান্তের কারণে কোনো প্রার্থী যদি সংক্ষুব্ধ হন, তবে তিনি আইনি প্রতিকার চেয়ে আপিল দায়ের করার সুযোগ পাবেন।

 

এই আপিল দায়েরের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন এই আপিলগুলোর ওপর শুনানি শেষে আগামী ৬ অক্টোবর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করবে।

 

এছাড়া কোনো প্রার্থী যদি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কারণে নিজ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে চান, তবে তাকে ৭ অক্টোবরের মধ্যে তা সম্পন্ন করতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে বলে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

 

নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-এক আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার গুরুদায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

 

তাকে সার্বিক কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানের জন্য আরও তিনজনকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই তিনজন হলেন-অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ঠাকুরগাঁও), রুহিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ভুল্লি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

 

স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণের দিন আইনশৃঙ্খলার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা থেকে শুরু করে ভোট গণনার কাজ পর্যন্ত সবকিছু নিবিড়ভাবে তদারকি করবেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং সাধারণ ভোটাররা যেন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

 

আধুনিক নির্বাচনী ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এবারও ঠাকুরগাঁও-এক আসনের উপনির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের জন্য দেশের বাইরে থেকে ভোট দেওয়ার বিশেষ সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। প্রবাসীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার এই উদ্যোগটি ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 

গত নির্বাচনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের সচিব জানান, বিগত নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-এক আসন থেকে বিশ্বের ৩৩টি দেশে অবস্থানরত ৩৮৬ জন প্রবাসী নাগরিক ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছিলেন।

 

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ভোটার ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। অন্যদিকে, দেশে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য দেশের অভ্যন্তরে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাতেও উল্লেখযোগ্য সাড়া মিলেছিল।

 

গত নির্বাচনে এই প্রক্রিয়ায় মোট চার হাজার পঁয়তাল্লিশ জন ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন, যার মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ভোটারের সংখ্যাই ছিল দুই হাজার সাতশত পঁয়ত্রিশ জন। এবারের উপনির্বাচনেও এই আধুনিক ভোটাধিকার প্রয়োগ পদ্ধতিগুলো কার্যকর থাকবে, যা সামগ্রিক ভোটদানের হার বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-এক আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কারণে তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়।

 

গত ২১ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। কেউ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে সেই মুহূর্ত থেকে তার সংসদীয় আসনটি শূন্য বলে গণ্য হবে।

 

সেই সাংবিধানিক বিধান মেনেই সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গত ২২ আগস্ট ঠাকুরগাঁও-এক আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এখন সেই শূন্য আসনেই আগামী ২৯ অক্টোবর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ঠাকুরগাঁওবাসী।