সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈশ্বিক শক্তিশালী পাসপোর্টের সূচকে আরও দুই ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

বৈশ্বিক শক্তিশালী পাসপোর্টের সূচকে আরও দুই ধাপ পেছাল বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আবারও পিছিয়েছে বাংলাদেশ। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রকাশিত ২০২৬ সালের জুলাই মাসের সর্বশেষ বৈশ্বিক সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান দুই ধাপ নেমে ৯৭তম স্থানে দাঁড়িয়েছে।

 

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৫তম। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ গন্তব্যে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে একই অবস্থানে রয়েছে এশিয়ার আরেক দেশ উত্তর কোরিয়া।

 

বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি সম্ভাব্য ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্য নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স এই গুরুত্বপূর্ণ সূচকটি প্রস্তুত করে থাকে। কোনো দেশের নাগরিক আগে থেকে ভিসা সংগ্রহ না করে অথবা অন-অ্যারাইভাল বা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভিসা সুবিধায় ঠিক কতটি দেশে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করতে পারেন, মূলত সেটিই এই বৈশ্বিক সূচক নির্ধারণের প্রধান মাপকাঠি।

 

নতুন এই সূচকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী নাগরিকরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করার সুযোগ পান। অথচ ২০২৫ সাল এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের সূচকে এই সংখ্যা ছিল ৩৭।

 

অর্থাৎ, মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ দুটি দেশে সহজ ভ্রমণ সুবিধা হারিয়েছে। তবে ভিসামুক্ত গন্তব্যের সংখ্যা কিছুটা কমলেও গত বছরের জুলাই মাসের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থানের সামান্য উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম।

 

বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত সুবিধা রয়েছে বিশ্বের ১৭টি দেশ ও অঞ্চলে। এসব গন্তব্যে ভ্রমণের জন্য আগে থেকে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না এবং বিমানবন্দরে নেমেও কোনো ভিসার আবেদন করতে হয় না; যাত্রীরা সরাসরি পাসপোর্ট ও রিটার্ন টিকিট নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন।

 

এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে রুয়ান্ডা, বাহামা, বার্বাডোজ, জাম্বিয়া, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, কুক আইল্যান্ডস, ভানুয়াতু, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো।

 

এর পাশাপাশি ভুটান, বুরুন্ডি, মালদ্বীপ, নেপাল, কম্বোডিয়া, তিমুর-লেস্তে, কোমোরোস দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, সিয়েরা লিওন, নিউই, সামোয়া ও টুভ্যালু-এই ১৪টি দেশে বাংলাদেশি নাগরিকরা অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পেয়ে থাকেন।

 

এসব দেশে পৌঁছানোর পর নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন কাউন্টার থেকে সরাসরি ভিসা সংগ্রহ করা যায়। এছাড়া শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া এবং সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস-এই দেশগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ সুবিধা পাওয়া যায়, যেখানে যাওয়ার আগেই অনলাইনে একটি বিনামূল্যের বা স্বল্প খরচের প্রাক-ভ্রমণ অনুমোদন নিতে হয়।

 

বিগত দুই দশকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে বাংলাদেশের পাসপোর্টের মানের একটি ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতা খুব সহজেই চোখে পড়ে। ২০০৬ সালের হেনলি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৬৮তম। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই পাসপোর্টের মান পিছিয়েছে।

 

২০১৫ সালে এটি ৯৯তম স্থানে এবং ২০২১ সালের জুলাইয়ে সূচকের ইতিহাসে সবচেয়ে তলানিতে, অর্থাৎ ১০৮তম অবস্থানে নেমে যায়। পরবর্তীতে খুব ধীর গতিতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতায় খুব বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।

 

অন্যদিকে, বাংলাদেশের মতো উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্ট দিয়েও মোট ৩৫টি দেশে কোনো অগ্রিম ভিসা ছাড়া প্রবেশ করা যায়, যার মধ্যে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা প্রায় আট থেকে দশটি এবং বাকিগুলোতে পৌঁছানোর পর ভিসা নেওয়ার সুবিধা মেলে।

 

সর্বশেষ এই বৈশ্বিক সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের মর্যাদা ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯২টি দেশে অবাধে ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, যাদের নাগরিকরা ১৮৮টি গন্তব্যে সহজ প্রবেশাধিকার পান।

 

তৃতীয় স্থানে থাকা সুইডেনের নাগরিকরা ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। শীর্ষ দশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও আইসল্যান্ড যৌথভাবে দশম স্থানে অবস্থান করছে। এছাড়া ইসরায়েল ১৮তম, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ৫৪তম, চীন ও কসোভো যৌথভাবে ৬০তম এবং হাইতি ও ভিয়েতনাম ৮৭তম স্থানে রয়েছে।

 

অন্যদিকে ইরান ও ফিলিস্তিন যৌথভাবে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে। যুদ্ধরত দেশগুলোর মধ্যে ইউক্রেন ৩১তম এবং রাশিয়া ৪৭তম অবস্থানে জায়গা পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট হলো মালদ্বীপের, যার বৈশ্বিক অবস্থান ৫২তম। দেশটির নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান।

 

প্রতিবেশী দেশ ভারত ৮১তম স্থানে রয়েছে, যাদের ভিসামুক্ত গন্তব্য ৫৫টি। এছাড়া ভুটান ৮৮তম, মিয়ানমার ৯১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৯৪তম স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের ঠিক পরেই ৯৮তম অবস্থানে রয়েছে নেপাল।

 

পাকিস্তান ২৯টি ভিসামুক্ত গন্তব্য নিয়ে ১০১তম স্থানে অবস্থান করছে। এই সূচকের একেবারে তলানিতে বা ১০৪তম স্থানে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান, যাদের নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুযোগ পান।