রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের দোসরদের গ্রেপ্তারে পুরস্কার ঘোষণা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের দোসরদের গ্রেপ্তারে পুরস্কার ঘোষণা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : Collected

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বিগত সরকারের দীর্ঘ সময়কালে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্তমান প্রশাসন।

 

এই ধারাবাহিকতায়, দেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগ এবং তাদের পূর্ববর্তী শাসনকালের দোসরদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ মাত্রায় তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

 

শনিবার, ছাব্বিশে সেপ্টেম্বর দুই হাজার ছাব্বিশ, দেশব্যাপী পালিত পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অত্যন্ত সম্মানজনক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন থেকে তিনি এই কড়া বার্তা প্রদান করেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, যারা বিগত সময়ের স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোর সহযোগী এবং আওয়ামী শক্তির পলাতক দোসরদের সফলভাবে গ্রেপ্তার করে দেশের প্রচলিত আইনের হাতে সোপর্দ করতে পারবেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে তাদেরকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে।

 

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বিগত সময়ের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃঢ়তার বিষয়টি জনসমুক্ষে ফুটে উঠেছে।

 

অপরাধীদের দ্রুততার সঙ্গে শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি তার নীতিগত বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অতীত নীরবতা ও বর্তমান সময়কার ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত ও সমালোচনামূলক আলোচনা করেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্ত এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে দেশের ভেতরেই অত্যন্ত সন্তর্পণে আত্মগোপন করে ছিলেন, যা আমাদের সার্বিক গোয়েন্দা নজরদারির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ঘাটতি ও প্রশ্নের জন্ম দেয়।

 

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, এত দিন ধরে এই অপরাধীরা কীভাবে সবার চোখের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে সক্ষম হলো এবং সেই সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সহায়তা বা নজরদারি ব্যবস্থা ঠিক কোথায় অবস্থান করছিল?

 

তবে এই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা শাখার সক্ষমতা ও দক্ষতার ওপর নিজের গভীর আস্থা ও অবিচল বিশ্বাস ব্যক্ত করেন। তিনি জানান যে, দেশের অন্যান্য সংস্থার তুলনায় পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা সহায়তা ব্যবস্থা বা তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি কার্যকর, নির্ভরযোগ্য এবং উত্তম বলে মনে করেন।

 

এই বিশেষ সক্ষমতাকে আরও বেশি শাণিত ও আধুনিক করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নিজেদের গোয়েন্দা তথ্যসংগ্রহের জাল আরও বিস্তৃত করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দেন।

 

তিনি সন্তোষের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালিত অভিযানের ফলে ইতিমধ্যেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসতে শুরু করেছে। এর উদাহরণ টানতে গিয়ে তিনি জানান, গত সপ্তাহে এ ধরনের আত্মগোপনে থাকা দুজনকে এবং গতকাল আরও একজনকে সফলভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

 

এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং লুকিয়ে থাকা বাকি অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের সাম্প্রতিক অতীত এবং গণমানুষের ওপর চালানো নিষ্ঠুরতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন।

 

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতিসংঘের নির্ভরযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে প্রায় এক হাজার চারশো নিরীহ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হতে হয়েছে।

 

এই হত্যাকাণ্ড কেবল সমতলেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আকাশপথ থেকেও নির্বিচারে গুলি চালিয়ে দেশের সাধারণ ও নিরস্ত্র নাগরিকদের হত্যা করার মতো ভয়াবহ ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে এমন হামলাকে তিনি মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে তিনি বিগত সতেরো বছরের শাসনকালের একটি অন্ধকার চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরেন।

 

তিনি অভিযোগ করেন যে, সেই দীর্ঘ সময়কালে দেশে অগণিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ভিন্নমতাবলম্বীদের জোরপূর্বক গুম করে দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছিল।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, যারা ক্ষমতার মোহে এক মাসের ব্যবধানে এক হাজার চারশো মানুষকে নির্দয়ভাবে হত্যা করতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে সাধারণ জনগণের ওপর এমন হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারে, তারা কখনোই দেশের মানুষের মঙ্গল চাইতে পারে না।

 

বিগত সরকারের দীর্ঘ সময়কালে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে এবং প্রতিষ্ঠানে যে ব্যাপক দলীয়করণ এবং কাঠামোগত ধ্বংসসাধন করা হয়েছে, সে বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলেন, একটি কার্যকর ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো তার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানসমূহ।

 

কিন্তু বিগত সতেরো বছরে দেশের পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে নজিরবিহীনভাবে দলীয়করণের মাধ্যমে কলুষিত করা হয়েছিল।

 

এর প্রত্যক্ষ ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ কার্যত একটি গণতন্ত্রহীন এবং একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল, যেখানে সাধারণ মানুষের নিজেদের ন্যূনতম অধিকার আদায়ের বা ন্যায়বিচার পাওয়ার কোনো সুযোগ অবশিষ্ট ছিল না।

 

তিনি দেশের আপামর জনসাধারণের বিবেকের কাছে একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছিল, সেই অপশক্তিকে বাংলাদেশের মানুষ ভবিষ্যতে আর কখনো রাজনীতি করার বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেবে কি না, তা আজ গভীরভাবে ভেবে দেখার সময় এসেছে।

 

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্বাস করেন যে, এ দেশের সচেতন জনগণ কখনোই চাইবে না যে, এমন একটি ফ্যাসিবাদী ও অগণতান্ত্রিক শক্তি পুনরায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পুনর্বাসিত হোক। সবচেয়ে আশ্চর্যের ও হতাশার বিষয় হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এত বড় মাত্রার হত্যাযজ্ঞ, গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার পরেও অভিযুক্তদের মধ্যে ন্যূনতম কোনো ধরনের অনুশোচনা বা অপরাধবোধ দেখা যায়নি।

 

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, যারা এই ভয়াবহ বর্বরতার প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দিয়েছিল, তারা আজ পর্যন্ত দেশবাসীর কাছে তাদের কৃতকর্মের জন্য কোনো প্রকার দুঃখ প্রকাশ করেনি বা বিন্দুমাত্র ক্ষমা প্রার্থনা করার প্রয়োজন বোধ করেনি।

 

বরং তারা বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে এখন বিদেশের মাটিতে বসে দেশের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কথাবার্তা বলছে এবং সেখান থেকেই উসকানিমূলক আওয়াজ তোলার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

পলাতক অপরাধীদের এই ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ দেশের মানুষের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল বলে তিনি মনে করেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা দেশের অভ্যন্তরে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করছে বা বিদেশে বসে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে, তাদের কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের উপযুক্ত বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে বর্তমান সরকারের দৃঢ় ও অবিচল অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাসহ যেসব সাজাপ্রাপ্ত এবং পলাতক শীর্ষ আসামি বর্তমানে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়ে অবস্থান করছেন, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত জোরালো আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

 

দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্তাবলি ও আন্তর্জাতিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের হাতে ফেরত দেওয়ার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক রীতিনীতি এবং পারস্পরিক চুক্তির প্রতি যথাযথ সম্মান জানিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র এই চিহ্নিত অপরাধীদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে, যাতে করে তাদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

 

পাশাপাশি তিনি দেশে ও বিদেশে পলাতক থাকা আসামিদের উদ্দেশ্যে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, তারা যদি বিদেশে আত্মগোপনে না থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আসেন এবং সাহসিকতার সঙ্গে আইনের মুখোমুখি হন, তবে সেটি তাদের জন্যই সবচেয়ে ভালো হবে।

 

তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই বেআইনি প্রতিশোধ বা বিচারবহির্ভূত পদক্ষেপের পথে হাঁটবে না, বরং আইন তার নিজস্ব গতিতে এবং নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী চলবে। অপরাধীরা যাতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ন্যায়বিচারের মাধ্যমে তাদের কৃতকর্মের উপযুক্ত শাস্তি পায়, সেটি নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

 

শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার সুদীর্ঘ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়, অপরাধ দমনে এবং জননিরাপত্তা বিধানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আটানব্বই জন কৃতী পুলিশ সদস্যকে সম্মানজনক ‘পিপিএম’ (বাংলাদেশ পুলিশ পদক) এবং ‘বিপিএম’ (রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক) পরিয়ে দেন।

 

এই রাষ্ট্রীয় পদক প্রদান দেশের পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনে আরও অনেক বেশি অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলে আশা প্রকাশ করছেন।

 

অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশ বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

তাদের উপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী বক্তব্য পুলিশ বাহিনীর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রদান করেছে।

 

সব মিলিয়ে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং অতীত অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।