মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ মিছিল ও পরবর্তী সমাবেশে তিনি এ আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন। বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক অগ্রগতি ও জননিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে একটি মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনদুর্ভোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যারা অতীতে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেছিল, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করেছিল এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে রুদ্ধ করে রেখেছিল, তারা এখন ভিন্ন কৌশলে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার পাঁয়তারা করছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণ প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছে। অথচ সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পরাজিত অপশক্তিগুলো প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমান সরকারের অর্জিত স্থিতিশীলতাকে দেশের বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে অসংখ্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে।
চৌধুরী আলম ও ইলিয়াস আলীর মতো নেতাদের হারিয়ে জাতি আজও শোকাচ্ছন্ন। সেই দুঃসহ স্মৃতি ও ভীতিকর পরিবেশের পুনরাবৃত্তি জনগণ আর কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
বর্তমান সরকার জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে রুখে দেওয়া বা দেশবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড সফল হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান।
রিজভী আরও বলেন, দেশের ভেতরে থাকা অপশক্তির পাশাপাশি বাইরের অনেক মহল থেকেও সার্বভৌমত্ব বিরোধী বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ ও অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে কোনোভাবেই খর্ব হতে দেওয়া যাবে না।
জাতি হিসেবে আমরা কাউকে আর গোলামির শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে দেব না। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য যারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে, তাদের অপকৌশল সম্পর্কে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সর্বক্ষণ সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের মাধ্যমেই যেকোনো অশুভ শক্তি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা সম্ভব। বর্তমান সরকার যে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই পথচলা অব্যাহত রাখতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সচেতন থাকতে হবে।
দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের আপস নয়, বরং কঠোর প্রতিরোধের মাধ্যমেই সমস্ত ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রুহুল কবির রিজভী।