শনিবার মরিশাস সরকারের মন্ত্রিসভার এক বিশেষ বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, গত একুশ দিনের মধ্যে যেসব বিদেশি নাগরিক উল্লিখিত তিনটি দেশে ভ্রমণ করেছেন, সেখানে অবস্থান করেছেন অথবা যাত্রাবিরতি করেছেন, আপাতত তাদের মরিশাসের ভূখণ্ডে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় গৃহীত এই কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনও পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে মরিশাসের মন্ত্রিসভা। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ছাব্বিশ থেকে উনত্রিশ জুলাই পর্যন্ত মরিশাসে বহুল প্রতীক্ষিত 'যুক্তরাষ্ট্র-আফ্রিকা ব্যবসায়ী সম্মেলন' অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ইবোলার কারণে উদ্ভূত বর্তমান বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করে এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনটি আপাতত স্থগিত করার যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার।
তবে এই প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ ছাড়ও রাখা হয়েছে। মরিশাস সরকারের বিবৃতিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মরিশাসের নিজস্ব নাগরিক এবং বৈধ অনুমতিপত্র থাকা বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কিছুটা শিথিল থাকবে।
বৈধ কাজের অনুমতিপত্র, আবাসিক অনুমতিপত্র, পেশাগত অনুমতিপত্র, ব্যবসায়িক ভিসা বা শিক্ষার্থী ভিসা থাকা যেসব ব্যক্তি গত একুশ দিনের মধ্যে আক্রান্ত তিনটি দেশে অবস্থান বা যাত্রাবিরতি করেছেন, তারা মরিশাসে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
তবে তাদের দেশে পৌঁছানোর পর জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে বাধ্যতামূলকভাবে একুশ দিনের কঠোর সঙ্গনিরোধ বা আলাদা থাকার নিয়ম পালন করতে হবে। মরিশাসের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের প্রতিটি প্রবেশপথে, বিশেষ করে বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে ভ্রমণকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।
আক্রান্ত দেশগুলো বা ওই অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। কোনো যাত্রীর শরীরে যদি ইবোলার প্রাথমিক কোনো লক্ষণও পরিলক্ষিত হয়, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হবে এবং দ্রুত তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাগত পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় তাদের সক্রিয় নজরদারি এবং রোগাক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও জোরদার করবে। আফ্রিকান ইউনিয়ন ইতিমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে ইবোলার এই সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব সমগ্র আফ্রিকা মহাদেশের আঞ্চলিক জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি মারাত্মক ও অনাকাঙ্ক্ষিত হুমকি তৈরি করেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে মরিশাসের গৃহীত এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।