শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দিবসে প্রেসিডেন্ট রামাফোসাকে অভিনন্দন ইরানের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দিবসে প্রেসিডেন্ট রামাফোসাকে অভিনন্দন ইরানের
ছবি: MNA

বর্ণবাদ অবসানের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশটির সরকার ও জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

 

এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে এই বিশেষ শুভেচ্ছা জানান তিনি। এই শুভেচ্ছাবার্তার মধ্য দিয়ে মূলত এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী, নিবিড় ও বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুনরায় প্রতিফলিত হয়েছে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর প্রেরিত বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তায় একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সর্বজনীন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন।

 

তিনি তাঁর বার্তায় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার যৌথ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগামী দিনে এমন একটি আদর্শ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, নব্য উপনিবেশবাদ এবং পরাশক্তির আধিপত্যবাদের বিষবাষ্প থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকবে।

 

বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে যখন নানা প্রান্তে মেরুকরণ, চরম অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত বিরাজ করছে, ঠিক সেই সংকটময় সময়ে ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানের এই বার্তা বৈশ্বিক শান্তি ও সমতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ আহ্বান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, প্রতি বছরের ২৭ এপ্রিল দক্ষিণ আফ্রিকায় 'ফ্রিডম ডে' বা স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হয়, যা ১৯৯৪ সালে দেশটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম গণতান্ত্রিক ও বর্ণবাদবিহীন নির্বাচনের ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

 

ঐতিহাসিকভাবেই ইরান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার, গঠনমূলক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই তেহরান ও প্রিটোরিয়ার মধ্যে একটি মজবুত আদর্শিক ঐক্যের ভিত্তি রচিত হয়েছিল।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ব্রিকস (BRICS) জোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে এই দুই দেশের সম্মিলিত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ তাদের মধ্যকার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

 

আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায্য অধিকার আদায়ের রাজনৈতিক সংগ্রামে এই দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ প্রায়শই একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে আসছে।

 

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর বার্তার উপসংহারে দক্ষিণ আফ্রিকার অব্যাহত জাতীয় উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান সরকার এবং সেদেশের অধিকারসচেতন জনগণের উত্তরোত্তর সার্বিক সাফল্য, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি এবং অব্যাহত আর্থসামাজিক সমৃদ্ধি একান্তভাবে কামনা করেছেন।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় দিবসের এই আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাবার্তা কেবল একটি প্রথাগত সৌজন্যমূলক পদক্ষেপই নয়; বরং এটি আগামী দিনে দুই রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার একটি সুস্পষ্ট ও সুচিন্তিত কূটনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন।

 

এই বার্তার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে যেকোনো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তেহরান ও প্রিটোরিয়া একে অপরের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকারই মূলত পুনর্ব্যক্ত করেছে।

 

- MNA