পশ্চিমা দেশগুলোর মদদে এই চাঞ্চল্যকর ও সুপরিকল্পিত গুপ্তহত্যার ছক কষা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। নিজেদের সংজ্ঞায়িত ‘গণতন্ত্রের’ বিরোধিতা, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ এবং আফ্রিকা মহাদেশে পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার কারণেই ইব্রাহিম ত্রাওরেকে রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার এই ঘৃণ্য পরিকল্পনা করা হয়।
তবে অর্থের প্রলোভন দেখিয়েও একনিষ্ঠ অনুসারীদের কেনা যায় না, সেই চিরন্তন সত্যটিই যেন আবারও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো এই ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে।
সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের বিস্তারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মদদপুষ্ট একটি চক্র ইব্রাহিম ত্রাওরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং সার্বক্ষণিক পাহারায় নিযুক্ত এক নিরাপত্তারক্ষীকে এই গুপ্তহত্যার জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করে।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার মতো এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের বিনিময়ে ওই দেহরক্ষীকে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ বিশাল অঙ্কের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে এ ধরনের গুপ্তহত্যার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ের ইতিহাস নতুন নয়। সাধারণত এমন বিপুল পরিমাণ অর্থের হাতছানি উপেক্ষা করা যেকোনো সাধারণ মানুষের জন্যই অত্যন্ত কঠিন।
কিন্তু সেই সাহসী দেহরক্ষী তাঁর দেশ, মাটি ও নেতার প্রতি অটুট দেশপ্রেম এবং ভালোবাসার চূড়ান্ত প্রমাণ দিয়ে এই লোভনীয় প্রস্তাব বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং পুরো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কথা জনসমক্ষে ফাঁস করে দেন।
প্রকাশিত তথ্যে আরও জানা যায়, এই হত্যার পরিকল্পনাটি ছিল অত্যন্ত সুকৌশলী, জঘন্য ও নির্মম। ষড়যন্ত্রকারীদের ছক অনুযায়ী, ইব্রাহিম ত্রাওরে যখন মসজিদে একান্ত প্রার্থনায় মগ্ন থাকবেন এবং স্রষ্টার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হবেন, ঠিক সেই সিজদারত অবস্থাতেই তাঁর ওপর পেছন থেকে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর কথা ছিল।
ধর্মীয় প্রার্থনার মতো একটি পবিত্র, ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও অরক্ষিত মুহূর্তকে এই জঘন্য কাজের জন্য সচেতনভাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যাতে তাঁর বেঁচে ফেরার কোনো সুযোগই অবশিষ্ট না থাকে। কিন্তু বিশ্বস্ত সেই প্রহরীর অটল সততার কারণে পশ্চিমাদের এই ঘৃণ্য আয়োজন পুরোপুরি ভেস্তে যায়।
নিজের বিরুদ্ধে এমন ভয়ংকর ও নিখুঁত হত্যা পরিকল্পনার কথা শুনে ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখাননি। নিজের জীবনের ওপর এমন চরম ঝুঁকির কথা জানার পর তিনি বেশ কিছুক্ষণ সম্পূর্ণ নিশ্চুপ ছিলেন এবং গভীর চিন্তায় মগ্ন হন।
দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে অবশেষে তিনি অত্যন্ত গভীর, দার্শনিক ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি মন্তব্য করেন। অসীম দৃঢ়তা নিয়ে তিনি বলেন, "বিশ্বস্ততা কখনো বাজারে বিক্রি হয় না, এটি মানুষের অন্তরে জন্ম নেয়।"
তাঁর এই একটিমাত্র বাক্য যেন সমস্ত দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এক নীরব অথচ শক্তিশালী হাতিয়ার। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে ইব্রাহিম ত্রাওরের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাঁর নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সুদৃঢ় হয়েছে।