আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাতে বোর্নো রাজ্যের সীমান্তবর্তী ইয়োবো অঞ্চলের জিল্লি নামক একটি গ্রামের বাজারে এই অপ্রত্যাশিত ও রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া প্রাথমিক বর্ণনায় এই মর্মান্তিক ঘটনাকে একটি চরম বিপর্যয়কর ও বিয়োগান্তক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে সাধারণ মানুষের কোলাহলে পূর্ণ একটি বাজারে এমন প্রাণঘাতী হামলা সমগ্র দেশটিতে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে।
এই ভয়াবহ হামলার বিষয়ে নাইজেরিয়ার বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে। ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, তাদের এই শ্বাসরুদ্ধকর সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল মূলত সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের যোদ্ধারা।
তবে সামরিক বাহিনীর ওই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জিল্লি গ্রামের সাধারণ বাজারে বোমা হামলা এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক নিরপরাধ মানুষের হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট উল্লেখ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই মর্মান্তিক বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীর ব্যাপক আধিপত্য এবং জোরালো উপস্থিতি রয়েছে।
ফলস্বরূপ, ওই এলাকায় প্রায়ই সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী এবং সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার জেরে বিগত বছরগুলোতে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ তাদের মহামূল্যবান প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এই মর্মান্তিক ও ভয়াবহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোর্নোর সীমান্তবর্তী ইয়োবোর গেইদাম বিভাগের ফুচিমেরাম প্রধান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি লাওয়ান জান্না নুর সংবাদমাধ্যমের কাছে তার গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলাটিকে একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বিপর্যয়কর ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, হামলায় আহত অসংখ্য মানুষকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উদ্ধার করে জরুরি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ইয়োবো এবং বোর্নোর বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তার জোরালো দাবি, রাতের বেলা ওই জনবহুল বাজারে চালানো বিমান হামলায় অন্তত দুই শতাধিক সাধারণ মানুষ নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় অন্তত তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দা এবং একটি স্বাধীন বেসরকারি সংস্থার কর্মীরাও নিহতের সংখ্যা দুই শতাধিক বলে নিশ্চিত করেছেন।
হামলার ভয়াবহতা স্মরণ করে আহমেদ আলি নামের তেতাল্লিশ বছর বয়সী এক আহত স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে তার বেঁচে ফেরার লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে আসা এই বোমাবর্ষণে তিনি অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং নিজের প্রাণ বাঁচাতে দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।
কিন্তু সেই ভয়াবহ মুহূর্তে তার এক বন্ধু তাকে প্রবল শক্তিতে টেনে ধরে মাটিতে শুইয়ে ফেলে, যার ফলে তিনি সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে রক্ষা পান। সন্ত্রাস দমনের নামে সাধারণ মানুষের উপর এমন ভয়াবহ হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।