শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাইজেরিয়ায় সামরিক প্রশিক্ষণ স্কুলে সশস্ত্র জঙ্গিদের ভয়াবহ অতর্কিত হামলা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬, ১২:৫৩ এএম

নাইজেরিয়ায় সামরিক প্রশিক্ষণ স্কুলে সশস্ত্র জঙ্গিদের ভয়াবহ অতর্কিত হামলা
ছবি: Collected

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি বিশেষায়িত সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সন্দেহভাজন ইসলামি জঙ্গিদের ভয়াবহ ও অতর্কিত হামলায় অন্তত ১৭ জন শিক্ষানবিশ পুলিশ কর্মকর্তা নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন।

 

শনিবার গভীর রাতে ইয়োবে রাজ্যের বুনি ইয়াডি নামক স্থানে অবস্থিত ওই পুলিশ ও সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে এই সমন্বিত রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে দেশটিতে চলমান ইসলামি জঙ্গি বিদ্রোহ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির এটি সর্বশেষ এবং অন্যতম ভয়াবহ একটি অধ্যায়, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

 

নাইজেরিয়ার জাতীয় পুলিশের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শনিবার রাতের অন্ধকারে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রটির একাধিক দিক থেকে একযোগে আক্রমণ চালায়।

 

ঘটনার সময় ওই কেন্দ্রটিতে পুলিশের বিশেষায়িত আভিযানিক প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন ওই শিক্ষানবিশ কর্মকর্তারা। জঙ্গিদের অতর্কিত ও তীব্র এই আক্রমণের মুখে নিজেদের জীবন বাজি রেখে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেন উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থী ও নিরাপত্তা রক্ষীরা।

 

এই বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের সময় সম্মুখ সমরে শুধু শিক্ষানবিশ পুলিশ সদস্যরাই নন, নাইজেরিয়ান সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন অধস্তন বা জুনিয়র সামরিক কর্মকর্তাও দেশের সুরক্ষায় আত্মত্যাগ করে প্রাণ হারিয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

হামলার প্রাথমিক আকস্মিকতা কাটিয়ে ওঠার পর সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে মোতায়েন থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও জঙ্গিদের লক্ষ্য করে তীব্র পাল্টা আক্রমণ চালান। যৌথ বাহিনীর এই জোরালো, সমন্বিত ও সাহসী সামরিক প্রতিরোধের মুখে আক্রমণকারী জঙ্গিরা ব্যাপক মাত্রায় ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়।

 

সামরিক ও স্থানীয় সূত্রের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর এই তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলায় অন্তত ৫০ জন সন্দেহভাজন সশস্ত্র জঙ্গি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে।

 

এই বিপুল সংখ্যক জঙ্গির মৃত্যু নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলেও, নিজেদের এতজন সম্ভাবনাময় কর্মকর্তার অকাল প্রাণহানি পুরো দেশটিতে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলো দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে ইসলামি জঙ্গিদের সশস্ত্র ও সহিংস বিদ্রোহের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

 

বোকো হারাম এবং পরবর্তী সময়ে তাদের সহযোগী ও দলছুট অন্যান্য উগ্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রায়শই ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ফাঁড়ি এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হামলা চালিয়ে আসছে।

 

এই দীর্ঘমেয়াদি ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে এক চরম মানবিক ও তীব্র নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে। সর্বশেষ এই সামরিক স্কুলে হামলার মর্মান্তিক ঘটনাটি পুনরায় প্রমাণ করে যে, নাইজেরিয়ার বর্তমান সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক নানামুখী প্রতিরোধমূলক সামরিক পদক্ষেপ সত্ত্বেও, সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এখনও দেশটির অভ্যন্তরীণ শান্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর হুমকি হিসেবেই রয়ে গেছে।

 

- দ্য নিউজ২৪