শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবোলা আতঙ্কে ৩ দেশে ভ্রমণ না করতে নাগরিকদের সতর্ক করল ভারত

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

ইবোলা আতঙ্কে ৩ দেশে ভ্রমণ না করতে নাগরিকদের সতর্ক করল ভারত
ছবি: NDTV

আফ্রিকা মহাদেশে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ভারত সরকার।

 

পরিস্থিতি বিবেচনায় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

পাশাপাশি, পেশাগত বা অন্য কোনো জরুরি কারণে ওই তিনটি দেশে বর্তমানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া জনস্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নির্দেশিকাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।

 

রোববার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক নির্দেশনায় এই সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়। মূলত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) চলমান ইবোলা পরিস্থিতিকে 'আন্তর্জাতিক উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা' হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার পরই ভারত সরকার এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কঙ্গো এবং এর পার্শ্ববর্তী আক্রান্ত দেশগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের ওই অঞ্চলগুলোতে যেকোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

 

তবে মন্ত্রণালয় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, ইবোলার বান্ডিবুগিও স্ট্রেইনে আক্রান্ত কোনো রোগী এখন পর্যন্ত ভারতের ভূখণ্ডে শনাক্ত হয়নি। ইবোলার এই নতুন প্রাদুর্ভাবকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও গবেষণা সংস্থাগুলো।

 

ইতোমধ্যে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা আফ্রিকা সিডিসি কঙ্গো এবং উগান্ডায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের এই বান্ডিবুগিও ধরনটিকে 'মহাদেশীয় নিরাপত্তাজনিত জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

 

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গত ২২ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি বা আইএইচআর জরুরি কমিটি বেশ কিছু অস্থায়ী প্রতিরোধমূলক পরামর্শ জারি করেছে। সেখানে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রয়েছে এমন এলাকাগুলো থেকে আসা যাত্রীদের, বিশেষ করে যাদের শরীরে জ্বরের প্রাথমিক উপসর্গ রয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করতে বিমানবন্দরসহ সকল আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে নজরদারি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ওপর সর্বাধিক জোর দেওয়া হয়েছে।

 

একইসঙ্গে ওই নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাধারণের ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করার নীতি গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া সতর্কতা অনুযায়ী, আক্রান্ত দেশ কঙ্গো ও উগান্ডার নিকটবর্তী হওয়ার কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্র দক্ষিণ সুদান বর্তমানে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যমতে, ইবোলার বান্ডিবুগিও স্ট্রেইনের সংক্রমণে মানবদেহে অত্যন্ত মারাত্মক রক্তক্ষরণজনিত জ্বর দেখা দেয়। এই রোগটি প্রকৃতিগতভাবেই অত্যন্ত গুরুতর এবং এতে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর হারও উদ্বেগজনক মাত্রায় বেশি।

 

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, ভাইরাসের এই নির্দিষ্ট ধরনটি প্রতিরোধ বা নিরাময়ের জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত কার্যকরী টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি।

 

ফলশ্রুতিতে, রোগের বৈশ্বিক বিস্তারের ঝুঁকি এড়াতে নিবিড় স্বাস্থ্য নজরদারি, ব্যক্তিগত সচেতনতা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সতর্কতাই এখন সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

-  এনডিটিভি