মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২০, ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্কিন র‍্যাপারের গান উদ্ধৃত করে ট্রাম্পের প্রস্তাব ফেরাল নাইজেরিয়া: 'নিজেরই সমস্যা, সাহায্য করতে পারব না'

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৫, ০৪:০৭ এএম

মার্কিন র‍্যাপারের গান উদ্ধৃত করে ট্রাম্পের প্রস্তাব ফেরাল নাইজেরিয়া: 'নিজেরই সমস্যা, সাহায্য করতে পারব না'
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত ৩০০ ভেনিজুয়েলান নাগরিককে গ্রহণ করার মার্কিন প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে নাইজেরিয়া। তবে এই প্রত্যাখ্যানের ছিল একেবারেই অভিনব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ মাইতামা তুগার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মার্কিন র‍্যাপার ফ্লেভার ফ্লেভের বিখ্যাত গান উদ্ধৃত করে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিকে নাকচ করে দেন। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই, ২০২৫) 'চ্যানেলস টেলিভিশন'-এর এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুগার বলেন, "আপনাদের হয়তো ফ্লেভার ফ্লেভের সেই লাইনটি মনে আছে: 'ফ্লেভার ফ্লেভের নিজেরই অনেক সমস্যা আছে, বন্ধু তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না'।

 

মূলত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্প্রতি আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর তৃতীয় দেশের (যাদের নিজ দেশ ফেরত নিতে অস্বীকার করে) অনিবন্ধিত অভিবাসীদের গ্রহণ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯-১১ জুলাই হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী পাঁচজন আফ্রিকান নেতাকে এই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুগার নিশ্চিত করেন যে নাইজেরিয়াকেও এই অনুরোধ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, "আমাদের নিজের সমস্যাই যথেষ্ট। এই অবস্থায় ভেনিজুয়েলার বহিষ্কৃত নাগরিকদের গ্রহণ করাটা অন্যায্য হবে। আমরা এটা করতে পারি না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, খনিজ সম্পদ এবং গ্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার মাধ্যমে নাইজেরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

 

নাইজেরিয়া এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও ট্রাম্পের নতুন অভিবাসন নীতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে অন্যান্য দেশের ওপর চাপ বাড়ছে। সোমবার, দক্ষিণ সুদান মিয়ানমার, কিউবা, ভিয়েতনাম, লাওস এবং মেক্সিকোর আটজন নাগরিককে গ্রহণ করেছে, যারা হত্যা এবং যৌন নিপীড়নের মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। এর আগে এল সালভাদর এবং কোস্টারিকাতেও একইভাবে বহিষ্কৃতদের পাঠানো হয়েছে। রুয়ান্ডা, বেনিন এবং মলদোভার মতো দেশগুলোর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। নাইজেরিয়ার এই অভিনব প্রত্যাখ্যানের পর এই নীতির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

---

আফ্রিকানিউজ