বছরের পর বছর ধরে চলা সহিংসতার অবসানে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) সরকার এবং রুয়ান্ডা-সমর্থিত M23 বিদ্রোহী গোষ্ঠী একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। শনিবার (১৯ জুলাই, ২০২৫) কাতারের দোহায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির লক্ষ্য দেশটির সমস্যাসংকুল পূর্বাঞ্চলে চলমান সংঘাত বন্ধ করা।
চুক্তিতে উভয় পক্ষ স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া, বিদ্বেষমূলক প্রচার বন্ধ করা এবং জোরপূর্বক নতুন অঞ্চল দখলের যেকোনো প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকারও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত।
আফ্রিকান ইউনিয়ন এই ঘোষণাটিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং একে পূর্ব ডিআর কঙ্গো ও গ্রেট লেকস অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে "একটি বড় মাইলফলক" হিসেবে বর্ণনা করেছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে M23 বিদ্রোহীরা এক বড় আক্রমণ চালিয়েছিল, যার ফলে গোমা ও বুকাবুর মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো তাদের দখলে চলে যায়। এই অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন এবং লাখ লাখ বেসামরিক নাগরিক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তোলে।
দোহা আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের একটি রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনার ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি থেকে বড় ধরনের আক্রমণ বন্ধ থাকলেও, M23 যোদ্ধারা এবং সরকার-সমর্থিত মিলিশিয়াদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল।
পূর্ব ডিআর কঙ্গো তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতিগত উত্তেজনা, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং খনিজ সম্পদের দখল নিয়ে সংঘাতে জর্জরিত। সর্বশেষ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি কতটুকু টিকে থাকবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে এটি দীর্ঘকাল ধরে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার শিকার এই অঞ্চলের জন্য এক আশার আলো দেখাচ্ছে।