শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে একটি নাটকীয় মোড় নেয়, যখন নামদি কানু একটি নতুন আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে তিনি যুক্তি দেন যে, নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসবাদ আর কোনো অপরাধ হিসেবে গণ্য নয়, কারণ দেশটির 'সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ ও নিষেধাজ্ঞা আইন' ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো বৈধ অভিযোগ অবশিষ্ট নেই এবং অবিলম্বে মামলাটি খারিজ করে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আর্জি জানান।
এই আবেদনে তার পূর্ববর্তী 'দোষী নই' (নট গিল্টি) স্বীকারোক্তি বাতিল করা এবং পরবর্তী সকল কার্যক্রমকে 'অকার্যকর' ও 'বাতিল' হিসেবে গণ্য করার দাবিও জানানো হয়। তবে, ফেডারেল সরকারের কৌঁসুলি অ্যাডেগোবোয়েগা অ্যাওমোলো এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে বলেন, এই আবেদনের জবাব দেওয়ার জন্য কোনো পাল্টা হলফনামার প্রয়োজন নেই এবং আদালতের উচিত বিদ্যমান নথিপত্রের ওপর নির্ভর করা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কানু কেবল আত্মপক্ষ সমর্থন করতে অস্বীকার করছেন এবং বিচার প্রক্রিয়াটি আইনসম্মতভাবেই পরিচালিত হয়েছে। বিচারক জেমস ওমোটোশো তার রায়ে উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে দায়ের করা এই মামলাটি অসংখ্য বিলম্বের সম্মুখীন হয়েছে, তবে তার আদালতে এটি দ্রুত শুনানির মাধ্যমে এগিয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই পর্যায়ে আর কোনো প্রাথমিক আপত্তি (প্রিলিমিনারি অবজেকশন) গ্রহণ করা হবে না।
বিচারপতি ওমোটোশো জোর দিয়ে বলেন, আদালত একটি সুষ্ঠু শুনানি নিশ্চিত করেছে। কানুর অনুরোধে অসংখ্যবার শুনানি মুলতবি করা হয়েছে এবং এমনকি তিনি ব্যক্তিগতভাবে 'ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে' কানুকে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য অনুরোধ করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উদাহরণ টেনে বিচারক বলেন, একজন আসামি যদি সুষ্ঠু শুনানির সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি পরে সেই অধিকার লঙ্ঘনের দাবি করতে পারেন না।
আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ সময়সীমা কানু ব্যবহার না করায়, আদালত এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন, যা এই দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াইকে একটি উপসংহারের কাছাকাছি নিয়ে এলো।