এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সও যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের কাতারে শামিল হলো, যারা সাম্প্রতিক সময়ে তাদের নাগরিকদের মালি ত্যাগের জন্য একই ধরনের নির্দেশনা জারি করেছে। মালির নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট 'জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন' (জেএনআইএম) নামক জিহাদি গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে ভেঙে পড়েছে।
এই গোষ্ঠীটি সম্প্রতি দেশজুড়ে এক বিধ্বংসী জ্বালানি অবরোধ আরোপ করেছে, যা মালির অর্থনীতিকে কার্যত পঙ্গু করে দিয়েছে। রাজধানী বামাকোসহ সারাদেশ ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়েছে, যার ফলে দেশটির সরকার দেশব্যাপী সমস্ত স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্রতা বৃদ্ধির মধ্যেই বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, লেব্রে শহরে একটি হামলায় অন্তত চৌদ্দজন মালীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা দেশটির সাধারণ মানুষের চরম নিরাপত্তাহীনতার চিত্রটিই তুলে ধরে।
জেএনআইএম-এর এই জ্বালানি অবরোধের ফলে মানবিক সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিদ্রোহীরা দেশের প্রধান আমদানি রুটগুলো, বিশেষ করে আইভরি কোস্ট ও সেনেগাল থেকে আসা জ্বালানি ট্যাংকারের বহরে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর ফলে শুধু জ্বালানি সংকটই নয়, দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার অভাবে সাধারণ নাগরিক জীবনযাত্রা এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।