অ্যাপোস্টলিক প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে একটি ভিন্নধর্মী বার্তা প্রদান করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের পক্ষ থেকে এই বৈঠককে "পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি" করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট রামাফোসা এবং পোপ চতুর্দশ লিও-এর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং উভয়েই প্রথা অনুযায়ী উপহার বিনিময় করেন।
এই উষ্ণ অভ্যর্থনা এমন এক সময়ে ঘটলো, যার মাত্র একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান গ্রহণ করেন। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি কর্মকর্তা যোগ দেবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে, ট্রাম্পের পরিবর্তে সম্মেলনে যোগদানের কথা থাকলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্সেরও সফর বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সম্মেলন বর্জনের কারণ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ 'আফ্রিকানার' (শ্বেতাঙ্গ কৃষক) জনগোষ্ঠীর ওপর কথিত নিপীড়নের অভিযোগ এনেছে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আয়োজক দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নির্বাচন করাকে "সম্পূর্ণ লজ্জাজনক" বলে অভিহিত করেন এবং শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু এই গোষ্ঠীর ওপর "নির্যাতনের" অভিযোগ তোলেন।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করে আসছে। এমনকি মার্কিন প্রশাসন এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে যে, তাদের সীমিত বার্ষিক শরণার্থী কোটার একটি বড় অংশ দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের জন্য বরাদ্দ রাখা হতে পারে। তবে, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার এই ধরনের সকল অভিযোগ বরাবরই "সম্পূর্ণ মিথ্যা" বলে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অতীতে সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন যে, এই কথিত বৈষম্যের তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তারা এই অভিযোগে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, বর্ণবাদের অবসানের তিন দশকেরও বেশি সময় পার হলেও, দেশের শ্বেতাঙ্গ নাগরিকরা এখনও কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চ জীবনমান উপভোগ করেন। এই বাস্তবতাটিই মার্কিন অভিযোগের সাথে মাঠের পরিস্থিতির "গভীর অসংগতি" স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।