আল-ফাশের শহরে যুদ্ধের তীব্রতা কতটা ভয়াবহ ছিল, তার নতুন চিত্র সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেল 'আল আরাবিয়া' এই সপ্তাহান্তে শহরটির ধ্বংসযজ্ঞের একটি ভিডিওচিত্র সম্প্রচার করেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সামরিক চিকিৎসা কেন্দ্রের ভেতরের ভবন ও একটি মসজিদের দেয়াল ভারি গোলাগুলির কারণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে আছে। স্থানটিতে স্থলমাইন বা পুঁতে রাখা বোমার উপস্থিতি নির্দেশ করতে লাল ফিতা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই চিকিৎসা কেন্দ্রটি সেনাবাহিনীর ষষ্ঠ ডিভিশনের ঘাঁটির কাছেই অবস্থিত, যেখানে আল-ফাশারের পতনের আগে সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) এবং আধা-সামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে মূল যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল। আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, আরএসএফ অভিযোগ করেছে যে, সুদানি সেনাবাহিনী এই চিকিৎসা কেন্দ্রটিকে যুদ্ধের সময় সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিল।
আল-ফাশেরের পতন এবং কর্দোফান অঞ্চলে সাম্প্রতিক সহিংসতার ফলে হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সোমবার জানিয়েছে, শুধু সপ্তাহান্তেই মধ্য সুদানের উত্তর কর্দোফান প্রদেশের বারা এলাকার বিভিন্ন শহর ও গ্রাম থেকে প্রায় দুই হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দারফুরের পাশাপাশি কর্দোফান অঞ্চলটিও বর্তমানে সুদানি সেনাবাহিনী এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী আরএসএফ-এর মধ্যকার যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সাহায্য সংস্থাগুলি এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, আরএসএফ-এর হাতে আল-ফাশারের পতনের ঘটনায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। আধা-সামরিক বাহিনীর নৃশংসতা থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে জনাকীর্ণ আশ্রয় শিবিরগুলিতে ছুটছেন। আইওএম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সহিংসতায় আল-ফাশের শহর এবং এর আশেপাশের গ্রামগুলো থেকে প্রায় ৯২,০০০ মানুষ অন্যত্র পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন, যা এই অঞ্চলের মানবিক সংকটকে আরও গভীরতর করেছে।