শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গিনি-বিসাউয়ের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক ফলাফলের আগেই দুই প্রধান প্রার্থীর জয়ের দাবি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০৪:৫৮ পিএম

গিনি-বিসাউয়ের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক ফলাফলের আগেই দুই প্রধান প্রার্থীর জয়ের দাবি
ছবি: AP

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি-বিসাউয়ে সদ্য অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই বিজয়ের দাবি করেছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। রোববারের ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল আসার আগেই বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জারের পক্ষ থেকে এই পাল্টাপাল্টি বিজয়ের ঘোষণা দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশকে চরম উত্তপ্ত করে তুলেছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় যখন পুরো দেশ, ঠিক তখনই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাপ্রবাহ। বর্তমান প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এম্বালোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত ফার্নান্দো দিয়াসের শিবির সবার আগে জয়ের দাবি করে বসে।

 

ফার্নান্দো দিয়াস দেশটির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি ‘আফ্রিকান পার্টি ফর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্স অফ গিনি অ্যান্ড কেপ ভার্দে’ (পিএআইজিসি)-এর সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডমিঙ্গোস সিমোস পেরেইরা, যার নিজের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আবেদন কারিগরি ত্রুটির কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছিল, তিনি দিয়াসকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। বিরোধী শিবিরের এই দাবির পরপরই বর্তমান ক্ষমতাসীন দলও নীরব থাকেনি।

 

প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এম্বালোর নির্বাচনী এজেন্টরা দাবি করেছেন যে, তাঁদের প্রার্থী ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, এম্বালো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় নির্বাচনের দ্বিতীয় কোনো রাউন্ড বা 'রান-অফ'-এর প্রয়োজন হবে না। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিনের শেষভাগে বা বুধবার নাগাদ আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে।

 

তবে তার আগেই দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভীতির সঞ্চার করেছে। গিনি-বিসাউয়ের রাজনৈতিক ইতিহাস এমনিতেই বেশ সংঘাতপূর্ণ। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বারবার সামরিক অভ্যুত্থান এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার শিকার হয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক ক্ষমতা দখলের প্রবণতা দেশটিতে একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছিল অতীতে।

 

তাই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এমন বিভ্রান্তি আবারও সেই পুরনো সংঘাতময় দিনগুলোকে ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রধান বিরোধী দলকে মূল ধারা থেকে দূরে রাখা এবং জনপ্রিয় নেতাদের প্রার্থিতা বাতিলের কারণে এবারের নির্বাচনকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত নির্বাচন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এই নির্বাচনটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট এম্বালোর জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা।

 

তিনি যদি এই নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে পারেন, তবে তা হবে দেশটির গত তিন দশকের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। গত ৩০ বছরে গিনি-বিসাউয়ের কোনো নেতা টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড গড়তে পারেননি। এম্বালোর সামনে সেই রেকর্ড গড়ার সুযোগ থাকলেও, বিরোধীদের প্রবল প্রতিরোধ এবং বিতর্কিত নির্বাচনী পরিবেশ তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন তাকিয়ে আছে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।

 

- Africa News