তবে শান্তির পথে এই সম্ভাব্য অগ্রগতির মুহূর্তেই দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। সোমবার গভীর রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আরএসএফ-এর কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো, যিনি হেমেদতি নামেই অধিক পরিচিত, এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন।
তিনি দৃঢ়কণ্ঠে জানান, তাঁর বাহিনী তিন মাসের জন্য অস্ত্র সংবরণ করতে প্রস্তুত, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয় এবং পরবর্তীতে সুদানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করা যায়। জেনারেল দাগালো আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তাঁরা এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, মিশর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে গঠিত ‘দ্য কোয়াড’ বা চার দেশীয় মধ্যস্থতাকারী দল গত দুই বছর ধরে সুদানের এই সংঘাত থামানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে স্থবির হয়ে পড়া গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে পুনরায় সচল করা। তবে আরএসএফ-এর এই নমনীয় অবস্থানের বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন সুদানের সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান।
তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। জেনারেল বুরহান অভিযোগ তুলেছেন যে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো নিরপেক্ষ নয় এবং তাদের প্রচেষ্টা পক্ষপাতদুষ্ট। তাঁর এই মন্তব্য শান্তি প্রক্রিয়ার জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ-এর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, তা এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে দেশটির সাধারণ জনগণ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যদিও প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতায় সৃষ্টি হয়েছে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম শোচনীয় মানবিক সংকট।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, সংঘাতের কারণে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন, যারা এখন বাস্তুচ্যুত হিসেবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার এই চরম সংকট দূর করা না গেলে সুদানকে দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধের কবল থেকে মুক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আরএসএফ-এর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব একটি সুযোগ তৈরি করলেও, সেনাবাহিনীর প্রত্যাখ্যান প্রমাণ করে যে শান্তির পথ এখনও কণ্টকাকীর্ণ।