ববি ওয়াইনের দল 'ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্ম' (এনইউপি) দাবি করেছে, তাদের নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেওয়া শত শত সাধারণ সমর্থককে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অন্যায়ভাবে আটক করেছে। বিরোধী দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজধানী কাম্পালা এবং মুকোনো জেলায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় এই ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটে।
এনইউপি-এর মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, ববি ওয়াইন যখন তাঁর সমর্থকদের নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ওপর চড়াও হয়। বিরোধী দলের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন সরকার পরিকল্পিতভাবে তাদের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে এবং ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ ভোটার ও সমর্থকদের তাদের নেতা থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
কাম্পালা এবং মুকোনো জেলা দুটি ঐতিহাসিকভাবেই বিরোধী দলের ভোটব্যাংক ও রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত, তাই নির্বাচনের ঠিক আগে সেখানে এই ধরণের পুলিশি অভিযান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, উগান্ডা পুলিশের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের এই অভিযোগের বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য পেশ করা হয়েছে।
পুলিশের একজন মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ববি ওয়াইন এবং তাঁর সমর্থকরা কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই একটি 'বেআইনি মিছিল' বা শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, যা শহরের স্বাভাবিক জনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে, রাস্তাঘাট সচল রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে বাধ্য হয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
তাদের ভাষ্যমতে, এটি কোনো রাজনৈতিক দমনপীড়ন নয়, বরং রাষ্ট্রের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি রুটিন কার্যক্রম। ববি ওয়াইন, যার প্রকৃত নাম রবার্ট কিআগুলানিi, উগান্ডার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনির একজন প্রধান ও শক্তিশালী চ্যালেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। সঙ্গীত জগৎ থেকে রাজনীতিতে আসা এই নেতা তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং পরিবর্তনকামী মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন।
এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনেও তিনি মুসেভেনির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। তিনি এবার দ্বিতীয়বারের মতো দীর্ঘমেয়াদী শাসক মুসেভেনির একচ্ছত্র ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। আগামী জানুয়ারি মাসে উগান্ডায় যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, তা দেশটির গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই নির্বাচনে ভোটাররা কেবল পরবর্তী প্রেসিডেন্টই নির্বাচন করবেন না, বরং ৫০০-র বেশি সংসদ সদস্যকেও নির্বাচিত করবেন, যারা আগামী দিনে দেশের আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখবেন। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সরকারি দল ও বিরোধীদের মধ্যে এই ধরণের সংঘাত এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা দেশটির নির্বাচনী পরিবেশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।