বুধবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে তারা এই আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। এই রায় কার্যকর থাকলে কেনিয়ার রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত একটি আঞ্চলিক থিংক-ট্যাংকের দায়ের করা মামলা থেকে।
ওই সংস্থাটি আদালতে অভিযোগ করেছিল যে, কেনিয়া এককভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে ‘ইস্ট আফ্রিকান কমিউনিটি’ (ইএসি) বা পূর্ব আফ্রিকান জোটের মূল নীতি ও বিধান লঙ্ঘন করেছে। আটটি দেশের সমন্বয়ে গঠিত এই রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক জোটের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো চুক্তি সমগ্র জোটের সম্মতিতে হওয়া উচিত ছিল, কেবল একটি দেশের সঙ্গে নয়।
আদালত বাদীর এই যুক্তি আমলে নিয়ে চুক্তির কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে। ২০২৪ সাল থেকে কার্যকর হওয়া ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ) বা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিটি কেনিয়ার অর্থনীতির জন্য লাইফলাইন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। এই চুক্তির আওতায় কেনিয়া ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ফুল, শাকসবজি এবং ফল রপ্তানি করার সুযোগ পায়।
বিনিময়ে, ইউরোপীয় পণ্যগুলো কেনিয়ার বাজারে বাধাহীন প্রবেশাধিকার পায় এবং আগামী ২৫ বছর ধরে ধাপে ধাপে শুল্ক হ্রাসের সুবিধা ভোগ করার কথা ছিল। আঞ্চলিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা অবশ্য শুরু থেকেই বলে আসছিলেন যে, জোটের অন্য সদস্যদের বাদ দিয়ে কেনিয়ার এই একক উদ্যোগ আঞ্চলিক ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে। যদিও চুক্তিতে বলা ছিল, পূর্ব আফ্রিকার অন্য দেশগুলো চাইলে পরবর্তীতে এতে যুক্ত হতে পারবে।
অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ নাইরোবির জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩ সালে দুই পক্ষের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ বিলিয়ন ইউরো বা ৩৩০ কোটি ডলার। এর মধ্যে কেনিয়া একাই ইউরোপে ১.২ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিশেষ করে কেনিয়ার কৃষি খাত, যা মূলত ইউরোপে ফুল ও ফল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, এই রায়ের ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।
সম্প্রতি অ্যাঙ্গোলার লুয়ান্ডায় আফ্রিকান ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুতোকে সাক্ষাৎ করতে দেখা গিয়েছিল, যা এই চুক্তির গুরুত্বকেই ইঙ্গিত করে। এমতাবস্থায়, আদালত কর্তৃক চুক্তি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কেনিয়ার অবস্থান এবং ইউরোপের সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।