মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উগান্ডায় নির্বাচনী উত্তেজনা, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতার প্রত্যাশায় মুসেভনি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

উগান্ডায় নির্বাচনী উত্তেজনা, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতার প্রত্যাশায় মুসেভনি
ছবি: AP

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার রাজপথ এখন নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার আর পতাকায় ছেয়ে গেছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ইউয়েরি মুসেভনির দল ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স মুভমেন্টের (এনআরএম) প্রচারণা এখন তুঙ্গে। ৮১ বছর বয়সী প্রবীণ নেতা মুসেভনি, যিনি ১৯৮৬ সাল থেকে একচ্ছত্রভাবে দেশটির শাসনক্ষমতায় রয়েছেন, তিনি আরও একবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার জন্য নির্বাচনে লড়ছেন।

 

দীর্ঘ চার দশকের শাসনামলে তার বিরুদ্ধে বিরোধী দমনের কঠোর অভিযোগ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির নানা স্ক্যান্ডাল আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত হলেও তার নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠী এখনো তার নেতৃত্বের প্রতি অটুট আস্থা বজায় রেখেছে। কাম্পালার রাস্তায় সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। এনআরএম-এর জাতীয় টাস্কফোর্সের ভাইস-সেক্রেটারি লিডিয়া নানসাংওয়াও জানান, বিরোধীরা যে ‘নতুন দেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা ও ভীতি রয়েছে।

 

তিনি বলেন, “আমরা জানি না তারা আসলে কেমন নতুন দেশের কথা বলছে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত যে, বর্তমান শাসনে আমরা আমাদের দেশ ও নিরাপত্তা উপভোগ করছি। প্রেসিডেন্ট আমাদের জন্য যা করেছেন, তাতে আমরা সন্তুষ্ট।” মুসেভনির সমর্থকরা মনে করেন, সাবেক এই বিদ্রোহী নেতা দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এনেছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করেছেন এবং এইচআইভি/এইডস মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।

 

ফ্ল্যাভিয়া আতুবেরা নামের এক স্থানীয় দোকানি জানান, একসময় উগান্ডা অনেক পিছিয়ে ছিল এবং নারীদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। কিন্তু মুসেভনির শাসনামলে নারীরা সমাজে তাদের অবস্থান ও স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে এবং শান্তিতে বসবাস করছে। তবে এই উন্নয়নের আড়ালে রয়েছে মুদ্রার উল্টো পিঠ। আফ্রিকার অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এই শাসক সংবিধান সংশোধন করে বয়স ও মেয়াদের সময়সীমা তুলে দিয়েছেন, যাতে তিনি আইনি বাধা ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

 

এবারের নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী জনপ্রিয় পপ তারকা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা ববি ওয়াইন। তরুণ প্রজন্মের কাছে ববি ওয়াইন পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠলেও তার রাজনৈতিক পথচলা মোটেও মসৃণ নয়। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে শত শত বিরোধী সমর্থককে আটক করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সম্প্রতি উগান্ডার নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ববি ওয়াইনের সমর্থকদের ওপর ‘নৃশংস দমন-পীড়ন’ চালানোর অভিযোগ এনেছে।

 

সংস্থাটি বলছে, বিরোধী মত দমনে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কাম্পালার রাজপথে এখন তাই হলুদ রঙের ছড়াছড়ি, যা মুসেভনির দলের প্রতীকী রং। একদিকে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের দোহাই দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষার চেষ্টা, অন্যদিকে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন-এই দুইয়ের মেরুকরণে উগান্ডার রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত। ১৫ জানুয়ারির এই নির্বাচন তাই কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং উগান্ডার ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের গতিপথ নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক অধ্যায় হতে যাচ্ছে।

 

- Africa News